আগামী ৪ বছরের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করবে সরকার : প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
ছবি: সংগৃহীত
১০:০৭ পিএম | ১৯ মে, ২০২৬
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন শুরু করেছে। নারীদের স্বাবলম্বী করতে এরই মধ্যে সরকার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছে। ’ তিনি বলেন, রাজধানীর খাল-বিল-নদী দূষণ বন্ধে বাসা মালিকদের সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।’
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নগরের সেবা নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় সরকারের ধারা পরিবর্তন করে সিটি গভার্ন্যান্স নিয়ে ভাবনার সময় এসেছে।’ তবে আগামী ৪ বছরের মধ্যে সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করবে’ বলে জানান তিনি।।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবায়ন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘পিপলস ম্যান্ডেট : সিটিজেন ডায়ালগ অন ম্যানিফেস্টো টু অ্যাকশন’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
একই অনুষ্ঠানে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন দেশের জন্য বড় হুমকি। ঝড়-দুর্যোগ মোকাবেলা করে উপকূলের মানুষকে টিকে থাকতে হচ্ছে।।
নদ-নদী, খাল-বিল যুগের পর যুগ খনন না করায় দখল দূষণ বেড়েছে। এসব দখল-দূষণের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাকর্মী কিংবা দলের নাম ব্যবহার করে থাকে। যারা দখল-দূষণ বন্ধ করতেই খাল খনন করা হচ্ছে।’
পানি সম্পদমন্ত্রী জানান, নদীভাঙনেও জমি, বসতবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু হচ্ছে। সরকার উদ্বাস্তুদের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতেও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তরুণদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্ম ও ছাত্রদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে হবে। অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, ‘শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষণে নদী দূষণ বাড়ছে। এতে মাছের উৎপাদনে প্রভাব পড়ছে। ইলিশ উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে। নির্বাচনী ইশতেহারে মৎস্য উৎপাদনের যে পরিকল্পপনা তা বাতবায়নে কাজ করছে সরকার।’
সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ বলেন, ‘নদ-নদী দখলের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এখনো দোষারোপের রাজনীতি করা হচ্ছে। এই রাজনীতি থেকে সবাইকে বের হয়ে আসতে হবে।’
সিইজিআইএস এর নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বছরে বছরে ৯১৫ হেক্টর জমি নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মানুষ উদ্বাস্তু হচ্ছে।। শহরের ওপর চাপ বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ঝুকি দিন দিন বাড়ছে।। নদীভাঙন আর উদ্বাস্তুর হার কমাতে হলে এখনই পরিকল্পনা দরকার।’
সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কেন যাচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পরিবেশবিদরা। তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে বিশ্ব এখন হুমকির মুখে। সরকার সেদিকেই যাচ্ছে। নবায়ন জ্বালানিতে না গিয়ে সরকার কয়লা বিদ্যুতের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। পরিবেশবিদ শরীফ জামিল বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবেলা করতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের জন্য দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সরকার ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছে। কার্বন বাণিজ্যের কথা বলছে, কিন্ত এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ তৈরি করা দরকার বলে পরামর্শ দেন তারা।
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদালয়, এপিই, সচেতন ফাউন্ডেশন, ব্রাইটার্স, ব্রাক সিথ্রিইআর, সিইজিআইএস, ক্যাপস, ডিআরডিএফ, ওয়াটার কিপার্স, ইউডো এবং ইপসা।
আইকে/টিএ