বোয়িংয়ের ফুয়েল সুইচ ‘সমস্যা’ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রে যাবে ভারত
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৪৪ পিএম | ২০ মে, ২০২৬
ভারতের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ড্রিমলাইনার বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে একজন পাইলট এই সুইচে সম্ভাব্য ত্রুটির কথা জানানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২ ফেব্রুয়ারি এআই১৩২ ফ্লাইট পরিচালনার পর এয়ার ইন্ডিয়ার এক পাইলট বোয়িং ৭৮৭-৮ (ভিটি-এএনএক্স) বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচে সমস্যা আছে বলে রিপোর্ট করেন। এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে ইঞ্জিন চালুর সময়ও একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া তাদের সব চলমান বোয়িং ৭৮৭ বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ সতর্কতামূলকভাবে পুনরায় পরীক্ষা করে, তবে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানায়, ডিজিসিএ উড্ডয়নযোগ্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচটি মূল সরঞ্জাম প্রস্তুতকারকের (ওইএম) কারখানায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিস্তারিতভাবে পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে।
সূত্রের বরাত অনুযায়ী, এই সুইচ মডিউলের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রে বোয়িংয়ের কারখানায়ও করা হতে পারে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওইএম-এর সুপারিশের ভিত্তিতে এয়ার ইন্ডিয়া ডিজিসিএ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের পরিদর্শন ও কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছে। পর্যালোচনার পর ওইএম জানায়, সুইচটি নকশা অনুযায়ী যান্ত্রিকভাবে কার্যকর এবং ব্যবহারযোগ্য।
পাইলটের ডিফেক্ট রিপোর্টে উল্লেখ ছিল, বাম ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ সামান্য চাপ দিলেই ‘রান’ থেকে ‘কাটঅফ’-এ চলে যায় এবং নির্ধারিত অবস্থানে দৃঢ়ভাবে লক হয় না।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ২ ফেব্রুয়ারি বিমানটি গ্রাউন্ডেড করা হয়। এয়ার ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র জানান, সংশ্লিষ্ট সুইচ মডিউলটি ওইএম এবং ডিজিসিএ উভয়ের পরীক্ষায় সম্পূর্ণ কার্যকর বলে নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে ডিজিসিএ ৩ ফেব্রুয়ারির প্রাথমিক পরীক্ষায় জানায়, ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপাতদৃষ্টিতে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। তাই বিমান সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন ক্রুরা নির্ধারিত মানসম্মত পদ্ধতি কঠোরভাবে অনুসরণ করেন। এর আগে গত বছরের ১২ জুন এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হন।
প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উড্ডয়নের পরপরই বিমানের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এরপর থেকেই ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বোয়িং ৭৮৭ বিমানটি ড্রিমলাইনার নামেও পরিচিত।
এবি/টিএ