© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সড়কে দুর্ঘটনা-প্রাণহানি কমাতে চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ

শেয়ার করুন:
সড়কে দুর্ঘটনা-প্রাণহানি কমাতে চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:১১ এএম | ২১ মে, ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরীতে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে মোটরযানের গতিসীমা কার্যকর করার বিষয়ে মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (জিআরএসপি)। 

বুধবার (২০ মে) নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত এ কর্মশালায় সড়কে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ চেকপোস্ট পরিচালনা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটির (বিআইজিআরএস) কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, সড়কে সময় বাঁচানোর চেয়ে জীবন বাঁচানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই চালকদের অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার সদর ফেরদৌস আলী চৌধুরী। প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেন জিআরএসপির এশিয়া প্যাসিফিক সিনিয়র রোড পুলিশিং অ্যাডভাইজর পিটার জোনস।

প্রশিক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনায় অতিরিক্ত গতির প্রভাব, গতিসীমা বাস্তবায়নে প্রযুক্তির ব্যবহার, সড়ক নিরাপত্তা কৌশল এবং নিরাপদভাবে চেকপোস্ট পরিচালনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা ২০২৪ অনুযায়ী মহাসড়কে ৮০ কিলোমিটার, শহরে ৫০ কিলোমিটার এবং স্কুল এলাকার আশপাশে ৩০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে যানবাহন চালালে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। এসময় তুলে ধরা হয়, রোড সেফটি রিস্ক ফ্যাক্টরস ইন চট্টগ্রাম: স্ট্যাটাস সামারি রিপোর্ট ২০২৪ অনুযায়ী চট্টগ্রামে ৪৪ শতাংশের বেশি যানবাহন নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করে চলাচল করছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এ হার সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭০ শতাংশ মোটরসাইকেল অতিরিক্ত গতিতে চলতে দেখা গেছে।

পিটার জোনস বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেইফ সিস্টেম পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণ। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং বিআরটিএর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত কমানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় ট্রাফিক সার্জেন্ট, সাব-ইন্সপেক্টর, পুলিশ পরিদর্শক, সহকারী পুলিশ কমিশনার ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারসহ মোট ৭২ জন পুলিশ কর্মকর্তা অংশ নেন। এছাড়া বিআরটিএর চারজন পরিদর্শকও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালা শেষে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক ওয়াহিদুল হক চৌধুরী অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন।


ইউটি/টিএ


মন্তব্য করুন