© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:০৭ পিএম | ২১ মে, ২০২৬
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে বাংলাদেশ মানবতার প্রতি গভীর নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত ফ্রাঙ্কোফোন পরিবেশে শান্তিরক্ষা বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থান ও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতার প্রতি অটল থেকে বিশ্বশান্তি রক্ষায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা, নারীর অংশগ্রহণ এবং শান্তিরক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে শুধু একটি দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং মানবতার প্রতি গভীর নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখে।

বহুপাক্ষিকতার প্রতি বাংলাদেশের অটল অবস্থান তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ। শান্তিরক্ষায় দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো ১৭৪ জন বাংলাদেশি সদস্যের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান।

এ ছাড়া নারী শান্তিরক্ষীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণকে তিনি বাংলাদেশের অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় তা আরও শক্তিশালী হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা সংস্কার ও নারীর ক্ষমতায়নে চলমান উদ্যোগগুলো টেকসই শান্তির ভিত্তি তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ভুল তথ্য, ডিজিটাল হয়রানি এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

শান্তিরক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত ম্যান্ডেট, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, সেনা ও পুলিশ প্রেরণকারী দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ছাড়া, তিনি ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং (বিপসট)’-এর মাধ্যমে প্রাক-মোতায়েন প্রশিক্ষণ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন এবং পরিবেশবান্ধব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

ফ্রাঙ্কোফোন পরিবেশে শান্তিরক্ষা বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে মরক্কো ও ফ্রান্স সরকার। এর প্রথম আয়োজন হয় ২০১৬ সালে। প্যারিস সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মরক্কোয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা।

এদিন, সন্ধ্যায় রাবাতের ফোর সিজনস হোটেলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল গ্রোথ কনফারেন্স ২০২৬-এ ‘জিওপলিটিকস অব ফ্র্যাগমেন্টেশন: পাওয়ার, এসক্যালেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক রিঅর্ডারিং’ শীর্ষক অধিবেশনে মূল বক্তা হিসেবে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সেখানে তিনি, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন, শক্তির ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক বিভাজনের প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন