© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষকদের বদলির আবেদন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন:
এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষকদের বদলির আবেদন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৩০ পিএম | ২১ মে, ২০২৬
দেশের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া চালু করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। প্রথম যোগদানের পর চাকরিকাল ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ হলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদনের যোগ্য হবেন বলে এতে উল্লেখ রয়েছে।

এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষকদের বদলির আবেদন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গত বুধবার (২০ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করে। এতে সই করেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। ফলে আগের ২০২৫ সালের নীতিমালাটি রহিত করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ সব এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বদলি কার্যক্রম এখন থেকে অনলাইনের স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

এতে বলা হয়, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর প্রথমে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের বিবরণ অনলাইনে প্রকাশ করে আবেদন আহ্বান করবে। একবার বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর সেখানে ন্যূনতম ২ বছর চাকরি সম্পন্ন না করে পুনরায় বদলির আবেদন করা যাবে না। একজন শিক্ষক বা কর্মচারী তার সমগ্র কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন।

আবেদনকারী শিক্ষক তার কাঙ্ক্ষিত সর্বোচ্চ ৩টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন। পারস্পরিক বদলির ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদনের বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো শিক্ষকের এমপিও স্থগিত, সাময়িক বরখাস্ত বা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। কোনো একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদনকারী থাকলে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারে কয়েকটি নির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। এগুলো হলো- নারী, দূরত্ব, স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল (যদি স্বামী/স্ত্রী সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন) এবং জ্যেষ্ঠতা। দূরত্ব পরিমাপের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুসৃত মডেল ব্যবহার করা হবে।

একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এক বছরে সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ে এক শিক্ষকের বেশি বদলি করা যাবে না। আবেদনকারী শিক্ষক প্রথমে তার চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় আবেদন করা যাবে।

নীতিমালায় আন্তঃবিভাগ শিক্ষক বদলি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন আঞ্চলিক পরিচালক এবং আন্তঃবিভাগ বদলিসহ অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের বদলির দায়িত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালকের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তবে সরকার জনস্বার্থে যেকোনো শিক্ষককে যেকোনো সময় বদলি করার অধিকার সংরক্ষণ করে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, বদলিকৃত শিক্ষকদের ইনডেক্স পূর্বের প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ট্রান্সফার হবে এবং তাদের এমপিও ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি পূর্ববৎ বজায় থাকবে। বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান বা আঞ্চলিক পরিচালক শিক্ষকের অবমুক্তি নিশ্চিত করবেন। অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অবমুক্তি হতে যোগদান পর্যন্ত সময়কাল কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে।

এসএ/টিকে

মন্তব্য করুন