© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত: রিপোর্ট

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত: রিপোর্ট

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:২৮ পিএম | ২২ মে, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির একটি চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হয়েছে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেগুলো ঘোষণা করা হতে পারে।


শুক্রবার (২২ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া।


বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে স্থল, নৌ ও আকাশপথে তাৎক্ষণিক, পূর্ণাঙ্গ এবং নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চূড়ান্ত খসড়ায় উভয় পক্ষ থেকে সামরিক, বেসামরিক বা অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা না চালানোর পারস্পরিক অঙ্গীকার রয়েছে। একইসঙ্গে সামরিক অভিযান ও গণমাধ্যমে শত্রুতামূলক প্রচারণা বন্ধের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্রগুলোর দাবি, প্রস্তাবিত কাঠামোতে সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া আরব উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো রাখা হয়েছে।

চুক্তির বাস্তবায়ন তদারকি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গঠনের প্রস্তাব রয়েছে বলে জানিয়েছে আল আরাবিয়া। পাশাপাশি চুক্তি কার্যকর হওয়ার সাত দিনের মধ্যে বাকি অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইরানের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

আল আরাবিয়ার সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়ার পরই চুক্তিটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

এর আগে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আর এতে এখনও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় কিছু ইতিবাচক সংকেত পাওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সময় নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে আলোচনা কোন দিকে যাবে।

আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়টি স্বীকার করে এখনও কোনো চুক্তি হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যুকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ফিরিয়ে আনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান বলেন, ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করে সম্ভব হলে ধ্বংস করা হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর কোনো ধরনের টোলের বিষয়েও বিরোধিতা করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ফিরিয়ে আনব। এটা আমাদের দরকার নেই, চাইও না। আমরা সেটা ধ্বংসও করে দেব, কিন্তু ইরানকে তা রাখতে দেব না।

এদিকে ইরানের পারমাণবিক উপাদান বিদেশে পাঠানো হবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ইউরেনিয়াম বাইরে পাঠালে ভবিষ্যতে তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানায় রয়টার্স।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান নিজেই পারমাণবিক উপাদানকে কম শক্তিশালী বা কম ঘনত্বে পরিণত করবে বলেও তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।

এসকে/টিকে

মন্তব্য করুন