© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণে অভিযুক্ত আসামির দায় স্বীকার

শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণে অভিযুক্ত আসামির দায় স্বীকার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৫৮ এএম | ২৩ মে, ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মনির হোসেন (৩০) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের একটি আদালত আসামির এই জবানবন্দি গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে আদালত মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে চার্জশিট দ্রুত জমা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া জানান, জবানবন্দিতে আসামি মনির শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণের কথা স্বীকার করার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বাকলিয়া চেয়ারম্যানঘাটার বালুরমাঠ সংলগ্ন 'ভাই ভাই ডেকোরেশন' নামের একটি দোকানের পাশের গুদামে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্ত মনির ওই ডেকোরেশনেরই কর্মচারী। ঘটনার পর শিশুটিকে সেখান থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়; পরে স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত মনিরকে ঘটনাস্থলেই আটকে রাখে এবং জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আসামিকে হেফাজতে নেয়।

এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত গভীর রাতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় বাকলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার মনির হোসেনের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার ঘারঘাটা গ্রামে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো বাকলিয়া এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত মনিরকে আটকে রাখা ভবনটি ঘেরাও করে ফেলে। পুলিশ আসামিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যেতে চাইলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাধা দেয় এবং পুলিশের হাত থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ও উত্তেজিত জনতার মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়, যা বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত চলতে থাকে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে, পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয় এবং বেশ কিছু যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুর করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। রাত ১১টার পর ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পুলিশ কৌশলে আসামিকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে জনতার ভিড় থেকে বের করে নিয়ে আসে। এই সহিংসতায় ৩০-৩৫ জন পুলিশ সদস্য এবং সাংবাদিকসহ ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

সিএমপির উপ-কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া জানিয়েছেন, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, অগ্নিসংযোগ ও জনসাধারণের জানমালের ক্ষতি করার অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় আরও একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানিয়েছেন, শিশুটি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ বলে মনে হলেও, চূড়ান্ত নিশ্চিত হওয়ার জন্য শিশুটির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট পেলেই প্রকৃত বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন