আই লাভ রিজেকশন, সেটা খিদে আরও বাড়ায়: শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
ছবি: সংগৃহীত
১১:৩০ এএম | ২৪ মে, ২০২৬
বাংলা সিনেমায় দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক জনপ্রিয় কাজ উপহার দিয়ে চলেছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। কখনও পরিচালক, কখনও অভিনেতা দুই ভূমিকাতেই সমান সাবলীল তিনি। খুব শিগগিরই মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর নতুন ছবি ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’। সেই ছবিকে ঘিরেই এক খোলামেলা আড্ডায় নিজের কাজ, ইন্ডাস্ট্রি, রাজনীতি আর ব্যক্তিগত ভাবনা নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক।
শিবপ্রসাদ জানান, কোন ছবিতে তিনি অভিনয় করবেন আর কোনটিতে শুধু পরিচালনার দায়িত্ব সামলাবেন, সেই সিদ্ধান্ত তিনি একা নেন না। তাঁদের প্রযোজনা সংস্থার সবাই মিলে আলোচনা করেই ঠিক হয় সবকিছু। শেষ সিদ্ধান্ত নেন নন্দিতা রায়। তাঁর কথায়, কোনও চরিত্রে তাঁকে মানাবে কি না, সেটাও দলগতভাবে বিচার করা হয়।
নতুন ছবি ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, এটি একটি রহস্যঘেরা গল্প। আগাথা ক্রিস্টির জনপ্রিয় চরিত্র ‘মিস মার্পেল’ থেকে অনুপ্রাণিত হলেও ছবিটি পুরোপুরি বাঙালিয়ানায় ভরা। শুধু রহস্য নয়, গল্পে উঠে আসবে নারী অধিকার ও অঙ্গদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও। তবে সবকিছুর মধ্যেই থাকবে বিনোদনের পূর্ণ স্বাদ।
বাংলা সিনেমার দর্শক ও গল্প বলার ধরন নিয়েও কথা বলেন শিবপ্রসাদ। তাঁর মতে, শুরু থেকেই তাঁরা একঘেয়ে পথে হাঁটেননি। ‘ইচ্ছে’ থেকে ‘মুক্তধারা’, ‘রামধনু’, ‘বেলাশেষে’, ‘প্রাক্তন’ কিংবা ‘হামি’ প্রতিটি ছবির বিষয় আলাদা। দর্শক যা আশা করেন, তার বাইরে গিয়ে হৃদয়ের কাছের গল্পই তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তাঁরা।

অনেকের অভিযোগ, মধ্যবিত্ত জীবনের গল্প নিয়ে কাজ করা নিরাপদ পথ। সেই সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন পরিচালক। তাঁর মতে, সমাজে আলোড়ন তোলা বিষয়ও তাঁরা বারবার পর্দায় এনেছেন। ‘হামি’ কিংবা ‘গোত্র’-এর মতো ছবির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অনেক সময় ঝুঁকি জেনেও তাঁরা কাজ করেছেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও স্পষ্ট মত দিয়েছেন শিবপ্রসাদ। তাঁর কথায়, বাঙালিরা নিজেদের সংস্কৃতি আর সিনেমাকে উদযাপন করতে ভুলে যাচ্ছেন। বাইরে থেকে কেউ বাংলা সিনেমা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করলেই সেটাকে সত্যি ধরে নেওয়া হচ্ছে। অথচ বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করার চেষ্টা কম।
রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিল্পের পরিবেশ রাজনীতিমুক্ত হওয়া প্রয়োজন। একজন মানুষের রাজনৈতিক মত থাকতেই পারে, কিন্তু পুরো ইন্ডাস্ট্রি যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবে চলে, তাহলে কাজের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তাঁর একটি মন্তব্য। শিবপ্রসাদ বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যান ভালোবাসেন। প্রতিদিন সকালে উঠে নতুন গল্প ভাবেন, তারপর সেই গল্প শোনান নন্দিতা রায়কে। বেশিরভাগ সময়ই প্রথম খসড়া বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু সেই ‘না’ তাঁকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে উৎসাহ দেয়।
পরিচালকের ভাষায়, মানুষ যখন না বলে, তখন সেটাকে হ্যাঁ করানোর মধ্যেই আলাদা আনন্দ আছে। আর সেই চ্যালেঞ্জই তাঁকে প্রতিদিন নতুন করে কাজ করার শক্তি দেয়।
পিআর/টিকে