চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, সাবেক সেনা সদস্যসহ গ্রেপ্তার ২
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৩১ এএম | ২৬ মে, ২০২৬
সরকারি বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে কোটি টাকা আত্মসাৎকারী একটি প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার (২৫ মে) সকালে কেরানীগঞ্জে র্যাব-১০ এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এ তথ্য জানান।
এ সময় সেনাবাহিনীর মেজর মোল্লা ওবায়দুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, রোববার নরসিংদী সদর ও ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- চক্রের মূলহোতা মো. তারেক সরকার (৪০) এবং তার সহযোগী মো. পলাশ কবির (৪২)।
র্যাব জানায়, তারেক সরকার ২০০৬ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন। পরে তথ্য গোপন করে কারা অধিদপ্তরে চাকরি নেন। সেখানে প্রায় ১৪ বছর কর্মরত থাকার পর ২০২০ সালে পুনরায় চাকরিচ্যুত হন। সরকারি বিভিন্ন বাহিনী ও দপ্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রতারণার জাল বিস্তার করেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে ভুয়া মোবাইল সিম ও তথাকথিত ভিআইপি সিম সংগ্রহ করতেন। এরপর দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রভাব খাটানো ও সুপারিশের নাটক সাজিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারেক সরকার স্বীকার করেছেন, গত তিন বছরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি এক থেকে দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
গ্রেপ্তারের পর তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও আলামত জব্দ করা হয়। জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ছবির সঙ্গে নিজের ছবি ফটোশপ করে তৈরি করা একটি বাঁধানো ছবিও পাওয়া গেছে, যা ব্যবহার করে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতেন।
তারেক সরকারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১০ ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার সহযোগী পলাশ কবিরকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-১০ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) তাপস কর্মকার জানান, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এসকে/টিএ