© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘ভাইরাল ভিডিও’ প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম মাদানী‘তখন সে কসম করে বলেছিল, আমি কখনও ভিডিও প্রচার করব না’

শেয়ার করুন:
‘তখন সে কসম করে বলেছিল, আমি কখনও ভিডিও প্রচার করব না’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:০২ এএম | ২৬ মে, ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি গানের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মুখ খুলেছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী (যিনি ‘শিশু বক্তা’ হিসেবে পরিচিত)। ভিডিওটি নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার জবাবে নিজের ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে পুরো বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে একে কেন্দ্র করে ট্রল বা উপহাস করায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের তীব্র সমালোচনা করেছেন।


রোববার (২৪ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রফিকুল ইসলাম মাদানীর একটি রোমান্টিক গানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশার অবসান ঘটিয়ে মাদানী জানান, ভিডিওটি কোনো এডিটিং বা কৃত্রিম নয়, বরং প্রায় আড়াই বছর আগে তার স্ত্রীর উদ্দেশ্যে গাওয়া একটি সংগীতের ক্লিপ।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, আমি প্রথম বিয়ে করার পর আজ থেকে আড়াই বছর আগে সিলেটের একটি রিসোর্টে বসে আমার স্ত্রীকে একটা সংগীত শোনাচ্ছিলাম। তখন সিলেটের এক বেইমান, সাকালাইন শাফি পেছন থেকে ভিডিও করে ফেলে। আমি যখন বিষয়টি দেখে ফেলি, তখন সে বলে, ‘ভাই, এই ভিডিও আমি কখনোই ছাড়ব না।’

আরেকটা ভিডিও তার কাছে ছিল যেটা এক জায়গায় নৌকা দিয়ে ঘুরতে গিয়ে মজা করছিলাম, সেটাও সে ভিডিও করে ফেলে এবং আমি যখন বলি ভাই ভিডিও ডিলিট করুন, তখন সে কসম খায়, বলে ভাই আমি কখনও ভিডিও কোথাও প্রচার করব না!

কিন্তু একটা কথাও সে রাখেনি, সেই বেইমানির প্রতি কষ্ট পেয়ে বিগত দুই বছর ধরে সিলেটের কোনো জেলায় প্রোগ্রামে যাই না। অনেক বন্ধু মুহিব্বিন ফোন করে দাওয়াত দেয়, সবাইকে না করে দিই; কিন্তু কাউকে বিষয়টা কখনও খুলে বলিনি!

রফিকুল ইসলাম মাদানী আরও লিখেন, এখন সেই বিষয়টি নিয়েই আওয়ামী লীগের লোকেরা নতুন করে মজা নিচ্ছে। সঙ্গে কিছু স্বজাতীয় গাদ্দার হিংসুকগুলোও নিচ্ছে, নিতে থাক। পাগলের সুখ মনে মনে- কাগজ উড়ায়, টাকা গোনে। তারা মনে করে আমাকে ট্রল করলে কিংবা মানুষের সামনে ছোট করলে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ব, খুব আবেগপ্রবণ হয়ে যাব, তারপর হয়তো আওয়ামী লীগ নিয়ে কিংবা যেকোনো দলের দালালি নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দেব। অথচ হাসিনা আমাকে দীর্ঘদিন বন্দি রেখেছিল, রিমান্ডে নির্যাতন করেছিল, কাপড় খুলে মেয়ে দিয়ে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করারও চেষ্টা করেছিল, যাতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি!



কিন্তু এরা ব্যর্থ। আমি থেমে যাইনি, ভয় পাইনি, ভেঙে পড়িনি। অতএব আওয়ামী লীগ ও তার সাঙ্গপাঙ্গলীগকে একটা পরামর্শ দিচ্ছি- আমাকে নিয়ে পড়ে না থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও কীভাবে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটা নিয়ে চিন্তা করেন!

আমি আমার আদর্শ ও বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব। মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সত্যের পক্ষে কথা বলাই আমার লক্ষ্য। আমাকে থামানোর চিন্তা বাদ দিন। আমি এই উম্মাহকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসি। আমি অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে বিশ্বাস করি। আমার মানসিক দৃঢ়তা কতটুকু, সেটা আমার বিরোধীরাও জানে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ- সবাই ভালো হয়ে যান!

উল্লেখ্য, এর আগে ‘গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতেই দ্বিতীয় বিয়ের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত’- এমন মন্তব্য করেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন এই তরুণ ইসলামি বক্তা।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন