সিলেটে ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৩৯ এএম | ২৬ মে, ২০২৬
টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেট অঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। নদীগুলোর পানি এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সিলেট বিভাগে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সিলেট আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল সোমবার (২৫ মে) সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় সিলেটে ১৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা) জেলায় ৩৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
সোমবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দৈনিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, পিয়াইন ও লোভা নদীর সবকটি পর্যবেক্ষণ পয়েন্টেই পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সব নদীর পানিই এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও সিলেটে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং বৃষ্টির এই প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ ভারতের মেঘালয় অঞ্চলের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল। মেঘালয়ের পাহাড়ি ঝরনা বেয়ে নেমে আসা পানিই মূলত সিলেটের নদীগুলো দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয় বৃষ্টিপাতেরও কিছুটা প্রভাব রয়েছে, তবে সাধারণত দেশের অভ্যন্তরীণ বৃষ্টির কারণে এখানে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় না। সিলেটের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতি বছরই এখানে গড়ে চার থেকে পাঁচবার আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, তবে প্রতিবারই পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে না।
বন্যা পরিস্থিতির পূর্বাভাস নিয়ে তিনি আরও বলেন, সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অনেকাংশেই মেঘালয়ের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। অনেক সময় দেশে বৃষ্টি না থাকলেও উজানে ভারী বর্ষণের কারণে এখানে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। আবার মেঘালয়ে বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতিও দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে। এই মুহূর্তে বন্যার সম্ভাবনা ৫০-৫০ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি পুরোপুরি উজানের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করছে। তাই আকস্মিক বন্যার আশঙ্কাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত ফসলের কোনো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সিলেটবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে যে পানি আসছে, তা দ্রুতই নিম্নাঞ্চলের দিকে নেমে যাচ্ছে। উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের কারণে সাধারণ আশঙ্কা থাকলেও আপাতত বড় ধরনের বা দীর্ঘমেয়াদি বন্যার কোনো সম্ভাবনা নেই।
এসকে/টিএ