© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

এআই যেন মানুষকে শাসন করতে না পারে: পোপ লিও

শেয়ার করুন:
এআই যেন মানুষকে শাসন করতে না পারে: পোপ লিও

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৩২ এএম | ২৬ মে, ২০২৬
কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্র-মানুষের জীবনের প্রতিটি স্তরে জেঁকে বসা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)-কে কঠোর নৈতিক শৃঙ্খলে বাঁধার হুঁশিয়ারি দিলেন পোপ লিও। এই প্রযুক্তির দ্রুত উত্থানের নেপথ্যে থাকা ক্ষমতার সংস্কৃতি'র তীব্র নিন্দা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রযুক্তিটিকে মানব কল্যাণে নিরস্ত্রীকরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাথলিক চার্চের শীর্ষ ধর্মগুরু।

সোমবার (২৫ মে) ভ্যাটিকানে এক অনুষ্ঠানে নিজের প্রথম প্রধান বিশ্বপত্র বা এনসাইক্লিকাল প্রকাশকালে পোপ এই মন্তব্য করেন। ম্যাগনিফিকা হিউম্যানিটাস শীর্ষক এই ঐতিহাসিক নথিতে পোপ লিও দাসপ্রথাকে স্পষ্ট ভাষায় নিন্দা জানাতে ক্যাথলিক চার্চের দীর্ঘ বিলম্বের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। একে তিনি খ্রিস্টীয় স্মৃতির একটি ক্ষত বলে অভিহিত করেন।

একই সঙ্গে বর্তমান ডিজিটাল অর্থনীতির কারণে তৈরি হওয়া নব্য দাসপ্রথা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পোপ। গত বছরের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পোপ লিও এআই-কে মানবতার জন্য এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন। প্রথা ভেঙে সোমবার ভ্যাটিকানের অনুষ্ঠানে তিনি নিজেই এই নথিটি সবার সামনে উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার ওলাহ।

পোপ তার লিখিত বার্তায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুদ্ধের পুনরাবৃত্তিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এআই প্রযুক্তি যুদ্ধকে একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত করতে সাহায্য করছে। পোপ লেখেন, যুদ্ধক্ষেত্রে এআই-এর বিকাশ এবং ব্যবহারকে অবশ্যই কঠোর নৈতিক সীমানার মধ্যে আনতে হবে, যাতে মানুষের মর্যাদা ও জীবনের পবিত্রতা রক্ষা করা যায় এবং এআই চালিত অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়।

সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি জায়ান্টদের প্রতি ইঙ্গিত করে পোপ সতর্ক করেন যে, ডিজিটাল ব্যবস্থা ও তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ এখন কোনো রাষ্ট্রের হাতে নেই, বরং তা গুটিকয়েক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠানের হাতে পুঞ্জীভূত হচ্ছে। এর ফলে জনস্বার্থ আড়ালে চলে যাচ্ছে এবং সমাজে নতুন বৈষম্য ও শোষণের জন্ম হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার ওলাহ পোপের সুরেই সুর মিলিয়ে বলেন, এআই-এর নিয়ন্ত্রণ কেবল প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না। এতে সরকার ও ধর্মীয় নেতাদের নজরদারি প্রয়োজন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এআই ভবিষ্যতে বিপুল পরিমাণ মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নিতে পারে। ওলাহ বলেন, যদি তেমনটা ঘটে, তবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো হবে ইতিহাসের অন্যতম বড় নৈতিক দায়িত্ব।

উল্লেখ্য, বিগত পোপেরা অতীতে আটলান্টিক দাস ব্যবসায় খ্রিস্টানদের সম্পৃক্ততার জন্য ক্ষমা চাইলেও, এই প্রথম কোনো পোপ ইউরোপীয় রাজপরিবারগুলোকে কৃষ্ণাঙ্গ ও আদিবাসীদের দাস বানানোর প্রকাশ্য কর্তৃত্ব দেওয়ার ঐতিহাসিক ভুলের জন্য চার্চের পক্ষ থেকে সরাসরি ক্ষমা চাইলেন।

ভ্যাটিকান জানিয়েছে, চার্চ প্রযুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করছে না, বরং গুগল বা মাইক্রোসফটের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সংলাপের মাধ্যমে এআই-এর সঠিক ও মানবিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায়।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আইকে/টিএ



মন্তব্য করুন