শেহবাজকে উপেক্ষা করে আসিম মুনিরকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪১ এএম | ২৬ মে, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণ নিয়ে দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান সাঈদ আসিম মুনির আহমেদ শাহ-এর নাম উল্লেখ করলেও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নাম উল্লেখ করেননি। যা নিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুরনো বিতর্ক ফের সামনে এসেছে। সোমবার আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণের বিষয়ে ট্রুথ সোশ্যাল-এ করা একটি দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প সপ্তাহান্তে যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন সেই বিশ্ব নেতাদের তালিকা দেন। কিন্তু যখন পাকিস্তানের প্রসঙ্গ আসে, তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নাম উল্লেখ করেননি। পরিবর্তে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সেনাপ্রধান সৈয়দ আসিম মুনির আহমেদ শাহের নাম উল্লেখ করেন।
ফলে পাকিস্তান নিয়ে এক অস্বস্তিকর বিতর্ক আবারও সামনে এনেছেন। এতে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত করে যে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের ‘সিভিল সরকার’ নয়, বরং সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বই বেশি প্রভাবশালী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস মূলত মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মুসলিম দেশ ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি উদ্যোগ, যা প্রথম শুরু হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের সময়।
এখন এটি সম্প্রসারণের আলোচনা আবার সামনে এসেছে।
এই ঘটনায় পাকিস্তানের ভেতরে পুরনো বিতর্কও নতুন করে জোরালো হয়েছে—দেশটিতে প্রকৃত ক্ষমতার কেন্দ্র কোথায়? সরকার নাকি সামরিক বাহিনী। এই বিষয়টি উপেক্ষা করা কঠিন ছিল।
ট্রাম্প সৌদি আরবের মোহাম্মদ বিন সালমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোহাম্মদ বিন যায়েদ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে তাদের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের পরিচয় উল্লেখ করে কথা বলেন। কিন্তু পাকিস্তানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সেখানে কোথাও ছিলেন না।
এই বার্তাটি অনেকের কাছে কূটনৈতিক ভুলের চেয়ে বেশি কিছু মনে হয়েছে—বরং এটি যেন পাকিস্তানের ভেতরের একটি বাস্তবতাকেই আবারও সামনে এনেছে। দেশটিতে পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নির্বাচিত সরকারের তুলনায় সামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রভাব এখনো অনেক বেশি।
আইকে/এসএন