ট্রাম্পের ইরান জয়ের কৌশল কেবলই অবাস্তব এক স্বপ্ন!
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪৯ এএম | ২৬ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে আরও জটিল করার মতো একটি নতুন লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন।
সোমবার (২৫ মে) এক ঘোষণায় তিনি জানান, তাঁর প্রথম মেয়াদের ঐতিহাসিক 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস' বা ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার জন্য তিনি সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর এবং জর্ডানকে আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানও এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে বলে মন্তব্য করে তিনি সবাইকে চমকে দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের শান্তি আলোচনার প্রাথমিক রূপরেখা নিয়ে দরকষাকষির মাঝেই ট্রাম্পের এমন প্রস্তাব ব্যাপক বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে পুরোপুরি অবাস্তব ও কাল্পনিক বলে মনে করছেন। কারণ, ইসরায়েলকে ইরান তাদের চিরশত্রু মনে করে এবং মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির নিহত হওয়ার পর তাদের পক্ষে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া একেবারেই অকল্পনীয়। একইভাবে, ইসরায়েলও ইরানকে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।
অন্যদিকে, আরব ও মুসলিম দেশগুলোর পক্ষেও এই মুহূর্তে ইসরায়েলকে ছাড় দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। গাজায় হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো সুস্পষ্ট পথ তৈরি না হওয়ায় সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এই চুক্তিতে যেতে নারাজ। এছাড়া, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আরব বিশ্বের চরম অসন্তোষ এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের নতুন করে হামলা জোরদারের ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে।
চলমান এই যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে আরব দেশগুলোর অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব-নিকাশের একেবারেই বাইরে ছিল। এই সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এমনকি ট্রাম্পের এই তালিকায় পাকিস্তানের নাম থাকাকেও অনেকেই অবাস্তব বলে মনে করছেন, কারণ দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং তারা কখনোই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের মতো ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বদের দিয়ে এমন জটিল কূটনৈতিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা নিয়েও জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।
অনেকেই ধারণা করছেন, ট্রাম্প হয়তো ইসরায়েলকে নিরাপত্তা সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে ইরানের সাথে একটি চুক্তিতে রাজি করাতে চাইছেন, অথবা নিজ দলের রিপাবলিকান কট্টরপন্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করছেন। আবার এমনও হতে পারে, ইরানের সাথে ধীরগতির শান্তি আলোচনা এবং অমীমাংসিত যুদ্ধ নিয়ে দেশের ভেতরের সমালোচনা থেকে সবার দৃষ্টি সরাতেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি চমকপ্রদ ঘোষণা দিয়েছেন। তবে উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, বিশ্লেষকদের মতে এটি মার্কিন নীতির একটি চিরচেনা ত্রুটি, যেখানে ওয়াশিংটনের কাছে বসে যা যৌক্তিক মনে হয়, মধ্যপ্রাচ্যের কঠিন বাস্তবতায় তা একেবারেই অচল।
সূত্র: সিএনএন
আইকে/এসএন