© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

গাজা ফ্লোটিলার স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে ইসরাইলের আচরণ ‘ভয়ানক’: মার্ক কার্নি

শেয়ার করুন:
গাজা ফ্লোটিলার স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে ইসরাইলের আচরণ ‘ভয়ানক’: মার্ক কার্নি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৩০ এএম | ২৬ মে, ২০২৬
গাজায় মানবিক ত্রাণবাহী জাহাজের স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি ইসরাইল সরকারের আচরণকে ‘ভয়ানক’ অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তবে তিনি ইসরাইল সরকারের ওপর নতুন কোনো চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দেননি।

সোমবার (২৫ মে) কানাডা সরকার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এতে প্রধানমন্ত্রী কার্নি ও ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের মধ্যে একটি ফোনালাপের কথা উল্লেখ করা হয়।

আলাপকালে কার্নি গাজা ফ্লোটিলার যাত্রীদের ওপর ইসরাইল কর্তৃপক্ষের অসম্মানজনক আচরণের স্বাধীন তদন্ত দাবি করেন। গত সপ্তাহে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তাতে দেখা যায় যাত্রীদের হাত বেঁধে, অপমান করে এবং মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে।

কানাডা সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী (কার্নি) বলেছেন যে, গাজাগামী জাহাজে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি- যাদের মধ্যে কানাডীয় নাগরিকও রয়েছেন-এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

কার্নি আরও বলেন, কানাডা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ইহুদি সেটেলার তথা অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে।

বেন-গভিরের শেয়ার করা ভিডিওটি বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক দেশই এর নিন্দা করে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। কয়েকটি দেশ আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, গত শনিবার ফ্রান্স বেন-গভিরকে তাদের দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ফ্রান্স বলেছে, ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ফরাসি ও ইউরোপীয় যাত্রীদের প্রতি তার অকথ্য আচরণের’ কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

পোল্যান্ডও বেন-গভিরের ওপর পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। ফ্রান্স ও ইতালির নেতারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে এই ইসরাইলি মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে ইসরাইল খুব কমই গুরুতর চাপ বা শাস্তির মুখে পড়েছে, শুধুমাত্র কথার নিন্দা ছাড়া। অথচ ইসরাইলি সেটেলার তথা অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ও সেনা সদস্যদের দ্বারা ফিলিস্তিনি এবং প্রো-ফিলিস্তিনি কর্মীদের ওপর আক্রমণ ও হত্যার অসংখ্য খবর রয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা ইসরাইলি কারাগারগুলোতে নির্যাতন এবং অমানবিক পরিস্থিতির প্রমাণ তুলে ধরেছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও বিটসেলেমের মতো সংগঠনগুলো ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, তারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চালু করে ‘অ্যাপার্থাইড’ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করছে।

এদিকে ইসরাইল ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এই যুদ্ধে ৭৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো অনাহার ও বাস্তুচ্যুতির শিকার হচ্ছেন। সোমবারের বিবৃতিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি গাজার মানবিক পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে অভিহিত করেছেন।

ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে গাজার বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। ইসরাইলের এসব অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সম্প্রতি গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার স্বেচ্ছাসেবীরা বারবার গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছে দিতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ইসরাইলি বাহিনী তাদের জাহাজ আটকে দিয়েছে।

গত ১২ এপ্রিল ভূমধ্যসাগরে নতুন একটি মিশন শুরু হয়, যাতে প্রায় ৭০টি জাহাজ এবং ৩,০০০ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী জাহাজে উঠে প্রায় ৪৩০ জনকে আটক করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

স্বেচ্ছাসেবীরা বলেছেন, আটক অবস্থায় তাদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। তাদের বর্ণনা আগের ফ্লোটিলা কর্মীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে যায়।অনেকেই ইসরায়েলি হেফাজতে নির্যাতন ও অপমানের অভিযোগ করেছেন। অন্তত ১৫ জন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে।

ইসরাইল কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছে যে, এই কর্মীরা ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের দ্বারা প্রভাবিত। বেন-গভির ভিডিও পোস্ট করে তাদের ‘সন্ত্রাসবাদের সমর্থক’ বলে অভিহিত করেছেন।

এমআর/টিকে  

মন্তব্য করুন