পদ্মশ্রী পেলেও আক্ষেপ প্রসেনজিৎ-এর
ছবি: সংগৃহীত
১১:৩১ এএম | ২৬ মে, ২০২৬
টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ বলা হয় যাঁকে, সেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-কে ঘিরে ফের উঠে এল তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারের অর্জন ও আক্ষেপের গল্প। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে কাজ করে আসা এই অভিনেতা একদিকে যেমন পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মান, তেমনি অন্যদিকে কিছু বড় স্বীকৃতি আজও তাঁর ঝুলিতে অধরা।
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণ করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বাংলা সিনেমায় তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান নিঃসন্দেহে তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি। আটের দশকের রোম্যান্টিক নায়ক থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে সমান্তরাল ধারার শক্তিশালী অভিনয় সব ক্ষেত্রেই নিজের ছাপ রেখে গেছেন তিনি।

তবে এই সাফল্যের মধ্যেও রয়ে গেছে এক বড় আক্ষেপ। এত দীর্ঘ কেরিয়ারের পরেও আজ পর্যন্ত তিনি সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি। ‘দোসর’, ‘চোখের বালি’, ‘অটোগ্রাফ’ থেকে শুরু করে ‘জাতিস্মর’ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হলেও জাতীয় মঞ্চে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি অধরাই থেকে গেছে।
বিশেষ করে ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘দোসর’ ছবিতে তাঁর সংবেদনশীল অভিনয়ের জন্য সেই বছর আলোচনায় ছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি স্পেশাল জুরি মেনশন পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ‘জাতিস্মর’-এর মতো ছবিতেও তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা থাকলেও সেরা অভিনেতার পুরস্কার জোটেনি তাঁর ভাগ্যে।
সিনেমাপ্রেমীদের একাংশ মনে করেন, তাঁর মতো একজন অভিনেতার বারবার এই স্বীকৃতি না পাওয়া বাংলা সিনেমার জন্যও এক ধরনের ঘাটতি। অন্যদিকে অনেকেই মনে করিয়ে দেন, পুরস্কারের বাইরেও দর্শকের ভালোবাসা ও দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তাই তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন।
প্রসেনজিৎ নিজেও একাধিকবার জানিয়েছেন, তাঁর কাছে দর্শকের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় পুরস্কার। স্টুডিও ফ্লোরে কাটানো দীর্ঘ সময়, অসংখ্য চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়া সব মিলিয়ে তাঁর যাত্রা বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।
তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, রাষ্ট্রীয় সম্মান পেলেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের শীর্ষ স্বীকৃতি কেন আজও অধরা রয়ে গেল এই ‘বুম্বাদা’র জন্য এই আক্ষেপই এখন ফের আলোচনায় টলিউড মহলে।
পিআর/এসএন