পাহাড়ি কুয়াশায় ঘেরা নতুন থ্রিলার ‘কুহেলি’
ছবি: সংগৃহীত
১১:৪৩ এএম | ২৬ মে, ২০২৬
অদিতি রায়ের পরিচালনায় নতুন বাংলা ওয়েব সিরিজ কুহেলি শুরু থেকেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে তার রহস্যময় আবহ ও টানটান গল্প বলার ধরনে। পাহাড়ি শহরের কুয়াশায় মোড়া পরিবেশ, সম্পর্কের জটিলতা এবং একের পর এক রহস্য উন্মোচন মিলিয়ে সিরিজটি তৈরি করেছে এক অস্বস্তিকর অথচ আকর্ষণীয় অনুভূতি।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উত্তরবঙ্গের এক ছোট পাহাড়ি শহর। সেখানে এক পুলিশ আধিকারিকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে শুরু হয় তদন্ত। প্রথমে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা মনে হলেও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়, এটি আসলে পরিকল্পিত খুন। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই বেরিয়ে আসে শহরের ভেতরের গোপন ক্ষোভ, চাপা সম্পর্ক ও মানসিক দ্বন্দ্বের অন্ধকার দিক।
সিরিজের অন্যতম শক্তি এর পরিবেশ নির্মাণ। পাহাড়ি কুয়াশা এখানে শুধু দৃশ্যপট নয়, যেন গল্পেরই এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। প্রতিটি দৃশ্যে লুকিয়ে থাকা উত্তেজনা দর্শককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে। ক্যামেরার কাজ ও আবহসঙ্গীত গল্পের রহস্যময়তা আরও গভীর করেছে।
অভিনয়ের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন প্রিয়াঙ্কা সরকার। ডিএসপি অগ্নি বসুর চরিত্রে তার সংযত ও বাস্তবধর্মী অভিনয় সিরিজকে বিশ্বাসযোগ্যতা দিয়েছে। পাশাপাশি কৌশিক সেন নিজের অভিজ্ঞতার ছাপ রেখেছেন। অন্যান্য চরিত্রে ঋদ্ধিমা ঘোষ, অঙ্গনা রায় ও সুস্মিতা দের উপস্থিতিও গল্পকে সমৃদ্ধ করেছে।

তবে সিরিজটি পুরোপুরি নিখুঁত নয়। কিছু অংশে তদন্তের গতি ধীর মনে হয় এবং শেষ পর্বে এসে গল্প এমন জায়গায় থেমে যায়, যা অনেক দর্শকের কাছে অসম্পূর্ণ অনুভূতি দিতে পারে। নির্মাতারা দ্বিতীয় সিজনের ইঙ্গিত রেখে গিয়েছেন, যা কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, ‘কুহেলি’ শুধুই একটি খুনের রহস্য নয়, বরং মানুষের ভেতরের অন্ধকার ও সম্পর্কের জটিলতাকে তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। থ্রিলারপ্রেমীদের জন্য সিরিজটি নিঃসন্দেহে একবার দেখার মতো অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে।
পিআর/এসএন