তিশার মৃত্যুতে দেশজুড়ে হইচই
ছবি: সংগৃহীত
০৫:০৪ পিএম | ২৬ মে, ২০২৬
বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় ভোপালের শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রাক্তন ‘মিস পুণে’ তিশা শর্মার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তোলপাড় ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন থেকে শুরু করে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় সাফল্য- সব মিলিয়ে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ছবি থাকা তিশার আকস্মিক মৃত্যু এখন রহস্য ও বিতর্কের কেন্দ্রে।
বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করার পর তিশা মুম্বই ও দিল্লির দুইটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি ‘মিস পুণে’ খেতাব অর্জন করেন। অভিনয়ের জগতেও তাঁর পদচারণা ছিল, একটি তেলুগু চলচ্চিত্রেও তিনি কাজ করেছিলেন। ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয় পেশায় আইনজীবী সম্রাটের সঙ্গে। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁদের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দাম্পত্য সম্পর্কে অস্থিরতা শুরু হয় বলে জানা যায়।
ঘটনার পর তিশার মৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র আলোড়ন। মামলার তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই যুক্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন তিশার স্বামী সমর্থ সিং। তাঁর দাবি, তিশার গর্ভপাতের পর থেকেই দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। তিনি আরও জানান, তিশাকে এককালীন সাত লক্ষ টাকাও দেওয়া হয়েছিল, যদিও কেন এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

অন্যদিকে তিশার পরিবার অভিযোগ করেছে, বিয়ের পর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়িতে মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি মাকে বার্তা পাঠিয়ে ভোপালের শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে নয়ডার নিজের বাড়িতে ফিরে আসার আকুতি জানান বলে দাবি পরিবারের। এমনকি তিনি ফিরতে প্রস্তুতি হিসেবে টিকিটও কেটে ফেলেছিলেন বলে জানা যায়, তবে শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে গলায় ফাঁস লাগার কারণে মৃত্যুর বিষয়টি উঠে এসেছে এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তিশার পরিবার এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলে দাবি করছে এবং শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে পণ দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে।
অন্যদিকে স্বামী সমর্থ ও তাঁর পরিবারের দাবি, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তিশার আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয় এবং পারিবারিক জীবনে অস্থিরতা তৈরি হয়। তাদের দাবি, এই ঘটনায় তাঁদের কোনো ভূমিকা নেই। প্রায় দশ দিন পলাতক থাকার পর সম্প্রতি জবলপুর থেকে সমর্থকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা গ্রহণ করেছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শুনানিতে সংবাদমাধ্যমকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তরা আইনজীবী ও বিচার বিভাগের সঙ্গে যুক্ত পরিবার থেকে আসায় তদন্তকে প্রভাবিত করার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে তিশা শর্মার মৃত্যু এখন শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, বরং তদন্ত, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে জটিল এক বিতর্কে পরিণত হয়েছে, যা দেশজুড়ে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এসএ/টিকে