বর সেজে হাজির ৪২ জন, কনে গায়েব!
ছবি: সংগৃহীত
০৭:০২ পিএম | ২৬ মে, ২০২৬
ধুমধাম করে বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। একে একে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হলেন ৪২ জন বর। সাথে এসেছেন তাদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধব। চারদিকে উৎসবের আমেজ, সানাইয়ের সুর। কিন্তু বিয়ের শুভ লগ্ন পেরিয়ে গেলেও দেখা মিললো না কোনো কনের! দীর্ঘ অপেক্ষার পর জানা গেল, কোনো কনেই আসবে না।
ঘটনাটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলার। বিয়ের নামে অভিনব ফাঁদ পেতে একসঙ্গে ৪২টি পরিবারকে সর্বস্বান্ত করেছে একটি প্রতারক চক্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, দেওয়াস জেলায় একটি বড় আকারের গণবিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ওই চক্র। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে টার্গেট করে তারা। ছেলেদের বিয়ে দেওয়ার জন্য এবং উপযুক্ত কনে খুঁজে দেওয়ার নাম করে পরিবারগুলোর কাছ থেকে ‘রেজিস্ট্রেশন ফি’ ও ‘বিয়ের খরচ’ বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
রোববার (২৪ মে) বিয়ের দিন বরেরা যথাসময়ে রাজকীয় সাজে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার সময় পার হয়ে গেলেও যখন কনেপক্ষের কারও দেখা মিলছিল না, তখন সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর আয়োজকদের খোঁজ করতে গিয়ে দেখা যায়, তারা সবাই ফোন বন্ধ করে চম্পট দিয়েছে।
মুহূর্তের মধ্যেই বিয়ের আনন্দ রূপ নেয় ক্ষোভে। একদিকে সারাজীবনের জমানো পুঁজি হারিয়ে পরিবারগুলো যেমন নিঃস্ব হয়েছে, অন্যদিকে শত শত মানুষের সামনে সামাজিকভাবে চরম অপমানের মুখোমুখি হতে হয়েছে ৪২ জন বরকে। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগী বাবা-মায়েরা।
অভিযুক্তরা মূলত সেইসব পরিবারকে নিশানা করেছিল যাদের ছেলেরা উপযুক্ত কনে খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছিলেন। তাদের এই দুর্বলতাকে পুঁজি করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ডাউনলোড করা তরুণীদের ছবি দেখানো হতো। এরপর ইন্দোরের একটি এতিমখানার মেয়েদের সাথে বিয়ে দেওয়ার নাম করে পরিবারগুলোর কাছ থেকে টাকা নেয়া হতো।
পুলিশ এবং অভিযোগকারীদের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারগুলোকে বলা হয়েছিল, ২৫ মে দেওয়াসে এই বিয়ে সম্পন্ন হবে। কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে ১২,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা নেয়া হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, তাদের কাছ থেকে ২৫,০০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। এই জালিয়াতির ঘটনায় মোট ১০ লাখ টাকারও বেশি নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর প্রতারিত পরিবারগুলো একসঙ্গে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ। কনে এবং বিয়ের ভুয়া আয়োজন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তাদে মূল উদ্দেশ্য। অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধার করতে ইতিমধ্যেই পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
দেওয়াসের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ মিশ্র জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া পর পুলিশ এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বিশাল এবং তার স্ত্রী চন্দা। তারা নিজেদের দেওয়াসের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। এছাড়া এই চক্রের সাথে জড়িত শৈলেন্দ্র নামে অন্য এক সহযোগীকেও পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
কেএন/টিকে