আলজাজিরার বিশ্লেষণযুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নেতানিয়াহুর জন্য ‘দুঃস্বপ্নের মতো পরিস্থিতি’ হয়ে দাঁড়াবে
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০৭ পিএম | ২৬ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে তা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য ‘দুঃস্বপ্নের মতো পরিস্থিতি’ হয়ে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। এটি তার বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতাকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে তুলে ধরা নেতানিয়াহু এই সংঘাত থেকে প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেননি।
আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষণ সংস্থার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মাইরাভ জোনসজেইন মনে করেন, যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানে ‘শাসন পরিবর্তন’ ঘটানো কিংবা দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করার যে লক্ষ্য নিয়ে চাপ তৈরি করা হয়েছিল, বাস্তবে তার কোনোটিই অর্জিত হয়নি। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে তা ইসরায়েল সরকারের জন্য ‘কৌশলগত বিপর্যয়’ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
আলজাজিরাকে মাইরাভ জোনসজেইন বলেন, নেতানিয়াহু হয়তো দাবি করতে পারেন যে ইরানের কিছু সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু সেটি দীর্ঘমেয়াদি বা নির্ণায়ক সাফল্য নয়।
বরং সংঘাত থেমে গেলে ইরান আবারও নিজেদের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনও দ্রুত এবং দৃশ্যমান সাফল্য আশা করেছিল। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে ওয়াশিংটনের জন্যও এখন সংঘাতের রাজনৈতিক পরিণতি সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাইরাভ জোনসজেইনের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যদি শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয় এবং যুদ্ধ বন্ধ হয়, তাহলে সেটি নেতানিয়াহুর জন্য ‘দুঃস্বপ্নের মতো পরিস্থিতি’ হবে। কারণ এতে তিনি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান দেখানোর সুযোগ হারাতে পারেন, একই সঙ্গে ইরানবিরোধী কঠোর নীতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
আরআই/টিকে