মেয়েকে হারিয়ে ঈদের আনন্দে বিষাদে ডুবেছেন কায়সার হামিদ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৬ পিএম | ২৬ মে, ২০২৬
দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আত্মত্যাগের মহান ব্রত নিয়ে পশু কোরবানিতে মেতে উঠবে মুসলিম উম্মাহ। আনন্দ ও আত্মশুদ্ধিতে ভরে উঠবে মোমিনের হৃদয়। এমন শুভক্ষণেও একদমই মন ভালো নেই জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদের। কারণ, প্রথমবারের মতো আদরের মেয়েকে ছাড়া ঈদ করতে যাচ্ছেন তিনি।
গত ১৫ মে মারা গেছেন তার বড় মেয়ে- জনপ্রিয় অভিনেত্রী, চিত্রনাট্যকার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার। এবারই প্রথম আদরের মেয়েকে ছাড়া ঈদ উদযাপন করতে হচ্ছে তাকে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে ফেসবুকে মেয়ের স্মৃতিজড়ানো একটি পারিবারিক ছবি পোস্ট করে নিজের বুকফাটা কষ্টের কথা প্রকাশ করেছেন এই ক্রীড়াবিদ।

ছবিটির ক্যাপশনে কায়সার হামিদ লিখেছেন, ঈদ এলো আনন্দের বার্তা নিয়ে। কিন্তু এই ঈদ আমার কাছে নিরানন্দ আর বিষাদময়। মাঝখানের লালপরিটা হঠাৎ আকাশে উড়ে চলে গেছে, কারিনাকে ছাড়া এই প্রথম ঈদ উৎসব। মেয়েটা আমাদের আনন্দ করতে, আনন্দে থাকতে, মানুষকে আনন্দে রাখতে পছন্দ করত। অথচ সেই কি না আমাদের মাঝে নেই।
পোস্টের শেষে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি আরও লিখেছেন, মনে যতই কষ্ট থাক, তবু ধর্মীয় আচার–অনুষ্ঠান, সামাজিকতা, এগুলো তো পালন করতেই হবে। আমার রাজকন্যা তুমি আমাদের সঙ্গেই আছো, পাশেই আছো। তোমাকে জানাই ঈদ মোবারক।
এর আগে মেয়েকে নিয়ে লেখা আরেকটি ফেসবুক পোস্টে কায়সার হামিদ লিখেছিলেন, বড় মেয়েটা আমার। এত তাড়াতাড়ি এভাবে চলে যাবে, ভাবতেও পারিনি। অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই কষ্টটা কাকে বোঝাব? প্রতিদিন যেন বুকের ওপর একটা পাথর নিয়ে বেঁচে আছি। কিছুই ভালো লাগে না। বারবার মনে হয়, এই বুঝি কারিনা ‘বাবা’ বলে ডাকবে। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে, কারিনা তো আর নেই। সে অনন্তের পথে পাড়ি দিয়েছে।
মেয়ের স্মৃতি মনে করে ফেসবুক পেজে একটি পুরোনো ছবি পোস্ট করে কথাগুলো লিখেছিলেন কায়সার হামিদ। ছবিতে দেখা যায়, মাত্র তিন মাস বয়সী কারিনা বাবার কোলে। বনানীর ডিওএইচএসের বাসা থেকে সেই ছবি তুলে দিয়েছিলেন কারিনার মা লোপা কায়সার। ছবিটির দিকে তাকিয়ে যেন ফিরে যাচ্ছিলেন তিন দশকের বেশি সময় আগের দিনে। স্মৃতিচারণা করে তিনি জানান, ১৯৯৩ সালের ১১ নভেম্বর জন্ম হয়েছিল তার মেয়ের। এ বছরের নভেম্বরে ৩৩ পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন কারিনা, যেখানে কারও বয়স বাড়ে না।
এসএ/টিকে