© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পশু কোরবানি নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহর ফেসবুক পোস্ট

শেয়ার করুন:
পশু কোরবানি নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহর ফেসবুক পোস্ট

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:২৮ পিএম | ২৬ মে, ২০২৬
‘ইবাদতও যে কখনো কখনো গণমানুষের সংস্কৃতি এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হয়ে উঠতে পারে, কুরবানি তার বড় উদাহরণ’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ।

‘বাংলাদেশে কুরবানি কেন্দ্রিক অর্থনীতির বাজার এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে’ বলে জানান তিনি। কুরবানি নিয়ে যারা আপত্তি তোলেন-তাদের উদ্দেশ্যে শায়খ আহমাদুল্লাহ আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত সোয়া ৭টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এসব কথা বলেন।

পোস্টে জনপ্রিয় এই ইসলামী ব্যক্তিত্ব বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরেই প্রতি কুরবানির ঈদে এক কোটির ওপর পশু কুরবানি হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক পশুর বড় অংশ উৎপাদন করে দেশের প্রায় ১৭ লাখ ছোট-বড় খামার। এসব খামারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় এক কোটি মানুষ।

ফলে কুরবানির ঈদ গ্রামীণ অর্থনীতির এক মৌসুমি প্রাণশক্তিতে পরিণত হয়েছে। এক সময় এই হিসাব পশুর বাজারে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন, পশুখাদ্য, চামড়া, মসলা, কামার শিল্প, ই-কমার্স, ফ্রিজিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন কুরবানি সেবা এবং মৌসুমি শ্রমবাজারের বিশাল কর্মযজ্ঞ।’

‘আবার নিয়মতান্ত্রিক খামারিদের বাইরেও বিপুলসংখ্যক কৃষক সারা বছর গরু-ছাগল পোষেন-কুরবানির হাটে বিক্রি করার আশায়। এটাই তাদের আয়ের প্রধান উৎস। এই পশু বিক্রি করে তারা মেয়ের বিয়ে দেন, ঘরের চাল মেরামত করেন, স্ত্রীর চিকিৎসা করান’, যোগ করেন তিনি।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘একটা সময় পার্শ্ববর্তী দেশের গরুতে সয়লাব থাকত আমাদের কুরবানির পশু বাজার। কিন্তু দিনে দিনে এদেশের খামারি ও কৃষকরা পশুশিল্পে এতটাই মনোযোগী হয়েছেন-এখন আমাদের উৎপাদিত পশুতেই কুরবানি চাহিদা পূরণ হয়ে যাচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ। শুধু তাই নয়, এই ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই হয়তো আমরা বিদেশে গরুর গোশত রপ্তানি করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক তাৎপর্যের পাশাপাশি অভাবগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর আমিষ ও খাদ্য চাহিদা পূরণেও বিশাল এবং প্রধান ভূমিকা রাখে কুরবানি। এমনও হয় যে, কৃষক কুরবানির হাটে গরু বিক্রি করল, বাজার ঘুরে ঈদের দিন তার ঘরেও ফিরে আসে কুরবানির গোশত। এত কিছুর পরও কুরবানির সময় আমাদের দেশে অনেক সিজনাল পশুপ্রেমীর আবির্ভাব ঘটতে দেখা যায়। তারা কি কুরবানি কেন্দ্রিক এই বিপুল অর্থনীতির বাজার এবং ইহজাগতিক কল্যাণ সম্পর্কে ধারণা রাখে না?’

তিনি আরও বলেন, ‘অস্তিত্বের প্রয়োজনে আমাদেরকে পশু-জবাই করতেই হয়। কিন্তু ইবাদতের পাশাপাশি এটা যদি হয় কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও অভাবীদের আমিষের চাহিদা পূরণের হাতিয়ার; তবে এটা নিয়ে আপত্তি তোলা নির্বুদ্ধিতা কিংবা মতলববাজ আচরণ ছাড় কিছু নয়।’

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন