© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত সকাল ৯টায়, থাকবে স্পেশাল ট্রেন

শেয়ার করুন:
কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত সকাল ৯টায়, থাকবে স্পেশাল ট্রেন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫৯ পিএম | ২৬ মে, ২০২৬
উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় এ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেই শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানকে ঈদুল আজহার জামাতের জন্য প্রস্তুত করে তোলা হয়েছে।

মুসল্লিদের আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে দুটি স্পেশাল ট্রেন থাকবে। ঈদুল আজহার জামাতকে নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কড়া নজরদারির মাধ্যমে মাঠ এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আর্চওয়ে, মেটাল ডিক্টেটর, ওয়াচ টাওয়ার ছাড়াও ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি করা হবে। 

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের এমপি মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক (ডিসি) সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ জেলা, পৌর, ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিং থেকে জানানো হয়, এবারের ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাতে ইমামতি করবেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

বিপুল সংখ্যক মুসল্লিদের উপস্থিতির কারণে বৃহৎ ঈদুল ফিতরের  জামাত শুরুর বার্তা পৌঁছাতে রীতি অনুযায়ী বন্দুকের তিনটি গুলি ছুঁড়া হয়ে থাকে।

ঈদুল আজহার জামাতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নিয়ে থাকেন। ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের জামাত উপলক্ষে মুসল্লিদের আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে দুটি স্পেশাল ট্রেন আসা-যাওয়া করবে। 

কিশোরগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে নরসুন্দা নদীর উত্তর পার্শ্বের বিস্তীর্ণ তীর জুড়ে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের অবস্থান।  তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ইসলামের ঐশী বাণী প্রচারের জন্য সুদূর ইয়েমেন থেকে আগত শোলাকিয়া ‘সাহেব বাড়ির’ পূর্বপুরুষ সুফি সৈয়দ আহমেদ তার নিজস্ব তালুকে ১৮২৮ সালে নরসুন্দা নদীর উত্তর  তীরে ঈদের জামাতের আয়োজন করেন। ওই জামাতে ইমামতি করেন সুফি সৈয়দ আহমেদ নিজেই।
 
অনেকের মতে, মোনাজাতে তিনি মুসল্লিদের প্রাচুর্যতা প্রকাশে ‘সোয়া লাখ’ কথাটি ব্যবহার করেন। মতান্তরে, কাতার গণনায় সেদিনের জামাতে ১ লাখ ২৫ হাজার (অর্থাৎ সোয়া লাখ) মুসল্লির উপস্থিতির কথা জানা যায়। উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন এ ঈদগাহ ময়দানে সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাতের খবর দেশ-বিদেশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর থেকেই শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ঈদের জামাতে দেশি-বিদেশি লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির ঢল নামতে শুরু করে। 

আর ওই বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের দেখভালের দায়িত্ব পালনে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসে।

প্রতি বছর এ ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানের ঈদুল ফিতরের জামাতে ৭-৮ লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। তবে ঈদুল আজহার জামাতে সে পরিমাণ মুসল্লির সমাগম ঘটে না।

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন