© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রফির গান শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ইন্দিরা, করমুক্ত হয়েছিল সিনেমা

শেয়ার করুন:
রফির গান শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ইন্দিরা, করমুক্ত হয়েছিল সিনেমা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৫৬ এএম | ২৭ মে, ২০২৬
ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে মহাম্মদ রফির নাম উচ্চারিত হয় এক গভীর আবেগের সঙ্গে। তার কণ্ঠে এমন এক মায়া ছিল, যা শুধু সাধারণ শ্রোতাদের নয়, দেশের শীর্ষ নেতাদেরও আবেগাপ্লুত করে তুলত। এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একটি গান শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

ষাটের দশকে বলিউডে রাজত্ব করছিলেন মহাম্মদ রফি। একের পর এক হৃদয়ছোঁয়া গান দিয়ে তিনি জয় করেছিলেন কোটি মানুষের মন। সেই সময় চলচ্চিত্র নির্মাতারা আবেগঘন কোনো গানের কথা ভাবলেই প্রথমে মনে করতেন রফির নাম। কারণ তার কণ্ঠেই যেন দুঃখ, ভালোবাসা আর অনুভূতির গভীরতা জীবন্ত হয়ে উঠত।

সেই সময়ের জনপ্রিয় প্রযোজক সাওয়ান কুমার তাক ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর একনিষ্ঠ ভক্ত। ১৯৬৪ সালের ২৭ মে নেহরুর মৃত্যুসংবাদ তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। প্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে তখনই তিনি একটি সিনেমা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর ১৯৬৭ সালে তৈরি হয় ‘নওনিহাল’ সিনেমা।

ছবিটির গল্প ছিল এক অনাথ শিশুকে ঘিরে। যে বিশ্বাস করত, দেশের প্রধানমন্ত্রীই তার আপনজন। সেই আবেগঘন গল্পকে আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজন ছিল এমন একটি গান, যা সরাসরি মানুষের হৃদয়ে গিয়ে আঘাত করবে। গানের কথা লেখেন কিংবদন্তি গীতিকার কাইফি আজমি। আর সেই গানে কণ্ঠ দেন মহাম্মদ রফি।



সিনেমাটি মুক্তির আগে সেটিকে করমুক্ত করার পরিকল্পনা করেন সাওয়ান কুমার। এজন্য তিনি দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে। ইন্দিরা তখন ছবিটি না দেখলেও অন্তত একটি গান শুনতে চান। এরপর টেপ রেকর্ডারে বাজানো হয় রফির কণ্ঠে সেই আবেগঘন গান।

গান শুরু হতেই যেন সময় থমকে যায়। বাবার স্মৃতিতে ডুবে যান ইন্দিরা গান্ধী। উপস্থিত সবাই লক্ষ্য করেন, তার চোখ ভিজে উঠেছে। গান শেষ হওয়ার আগেই তিনি আবেগ সামলাতে না পেরে নিজের কক্ষে চলে যান। মুহূর্তটি দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো কিছু ভুল হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই আসে অন্য খবর।

জানা যায়, ইন্দিরা গান্ধী পুরো ভারতজুড়ে ‘নাওনিহাল’ সিনেমাটিকে করমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একটি গান, একটি কণ্ঠ আর বাবাকে ঘিরে স্মৃতির আবেগ সব মিলিয়ে সেই মুহূর্তটি পরিণত হয়েছিল ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক স্মরণীয় ঘটনায়।

আজও সেই গল্প মনে করিয়ে দেয়, সংগীতের শক্তি কতটা গভীর হতে পারে। আর কেন মহাম্মদ রফিকে শুধু একজন গায়ক নয়, আবেগের আরেক নাম বলা হয়।

পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন