‘সবাইকে নিয়ে হাসি-আনন্দে ঈদ উদযাপনের জন্য এফডিসিতে কুরবানি চালু করেছিলাম’
ছবি: সংগৃহীত
০১:৩১ পিএম | ২৭ মে, ২০২৬
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়ক জায়েদ খান। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। এই সময়ের মধ্যে প্রবাসের মাটিতে বসেই তিনি বাঙালি সংস্কৃতি ও ধর্মীয় রীতির বিভিন্ন বড় বড় অনুষ্ঠান উদযাপন করেছেন। এবারও পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের ছেড়ে বিদেশেই ঈদ উদযাপন করছেন এ নায়ক।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দেশের একটি গণমাধ্যম অনলাইনের সঙ্গে কথা হয় জায়েদ খানের। এ সময় তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছি, এ কারণে এখানেই ঈদ বা অন্যান্য বিশেষ দিন উদযাপন করছি। কিন্তু দেশের মাটিতে সবার সঙ্গে ঈদ বা যেকোনো দিবস উদযাপনের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সব পরিচিত মানুষের সঙ্গে গল্প-আড্ডা দেয়া, একসঙ্গে খাবার খাওয়া, কখনো অন্যজনের সঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়া এতে যে ভালো লাগা কাজ করে, তা বোঝানোর মতো নয়।
‘অন্তর জ্বালা’ অভিনেতা বলেন, এখন প্রবাসে আছি। এখানে যারা দেশের মানুষ আছেন, পরিচিতজন আছেন, কাজের বাইরে তাদের সঙ্গে সময় কাটে। পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি। সবমিলিয়ে ভালো আছি।
বিএফডিসিতে কুরবানি দেয়ার ব্যাপারে শিল্পী সমিতির দুইবারের সাবেক এ সাধারণ সম্পাদক বলেন-
বিএফডিসিতে কুরবানির দেয়ার কৃতিত্ব আমি এককভাবে নেব না। আমরা উদ্যোগ নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি থেকে কুরবানি দিয়েছিলাম। যতটুকু মনে পড়ছে, কেউ একজন আমাকে বলেছিল যে, “জায়েদ ভাই, হাতে কাজ নেই, টাকাও নেই, ঈদে এক কেজি মাংসও হয়তো কিনতে পারব না।” আরও অনেক কথাই বলেছিল। কিন্তু এই কথাটুকু আমার হৃদয়ে প্রচণ্ডভাবে লেগেছিল। এ কারণে শিল্পীদের জন্য কুরবানি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম।
জায়েদ খান বলেন, ঈদের নামাজ পড়া শেষ করে বিএফডিসিতে চলে যেতাম। পশু জবাইয়ের পর আমি নিজে সঙ্গে থেকে মাংস ছাড়ানো, কাটাকাটি করা, ভাগ করা এবং তা সব শিল্পীদের কাছে পৌঁছে দেয়ার কাজ করেছি। দুঃস্থদের নয়, সবাই যেন মাংস পায় সেই চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে, ফ্রিজিং গাড়ি করে মাংস পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ঈদের আগেও অনেকের বাসায় ঈদ সামগ্রী উপহার পাঠিয়েছি। আমাদের চেষ্টা ছিল সবার মুখে হাসি ফুটানো, সবাইকে নিয়ে হাসি-আনন্দে ঈদ উদযাপন করা।
এ অভিনেতা কথা প্রসঙ্গে ছোটবেলার কুরবানির ঈদের স্মৃতিও মনে করেন। তিনি বলেন, ছোটবেলায় আমাদের কুরবানির গরু কেনার সময় বাবার সঙ্গে হাটে যাওয়ার অভ্যাস ছিল আমার। এ কারণে গরুর লাথি খেতে হয়েছে আমার; এটি একবার হয়নি, অনেকবার হয়েছে আমার সঙ্গে। আর আমাদের ওখানে আদর্শ স্কুল নামে একটি জায়গা রয়েছে, সেখানে নিয়ে গরু জবাই করতাম।
এ ঢালিউড তারকা আরও বলেন-
এখন তো বড় হয়েছি, দেশে থাকতে নিজে কুরবানির পশু কিনেছি অনেকবার। কিন্তু ছোটবেলার একটি বিষয় খুবই মিস করি আমি। ছোটবেলায় গরু কেনার পর লাল-সাদা ফুল কিনে সেটিকে সাজিয়ে হইহুল্লোড় করতে করতে বাড়ি ফিরতাম। বড় হয়েছি এখন, এ কারণে সেটি আর করতে পারি না। যা এখন শুধুই স্মৃতি আমার।
এসএন