'দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস'-এর প্রতিবেদনট্রাম্পের ‘গাজা শান্তি পর্ষদে’ জমা পড়েনি একটি ডলারও!
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩৫ পিএম | ২৭ মে, ২০২৬
গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন পরিচালনা, নিরাপত্তা এবং পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত 'বোর্ড অব পিস' বা শান্তি পর্ষদ গঠনের চার মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এর মূল তহবিলে এখনও কোনো অর্থ জমা পড়েনি। গত জানুয়ারিতে এই পর্ষদ গঠিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস'-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্ষদের বিশ্বব্যাংক পরিচালিত ও জাতিসংঘ অনুমোদিত দাপ্তরিক অ্যাকাউন্টে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ জমা পড়েনি; অর্থাৎ তহবিলে বর্তমানে 'শূন্য ডলার' রয়েছে।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক পরিচালিত এই তহবিলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ৭০০ কোটি ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১০০০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের তদারকি প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর এবং দাতাদের নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। এ কারণে দাতারা বিশ্বব্যাংককে এড়িয়ে বিকল্প পথ হিসেবে সরাসরি শান্তি পর্ষদের ব্যক্তিগত 'জেপি মরগান' অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠাচ্ছে, যেখানে স্বাধীন ও কঠোর আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতার বাধ্যবাধকতা নেই। শান্তি পর্ষদের মুখপাত্রও নিশ্চিত করেছেন যে, অনুদান বিশ্বব্যাংক বা জাতিসংঘের মাধ্যমে না গিয়ে সরাসরি জেপি মরগান অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে।
পর্ষদের এক কর্মকর্তা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন, তহবিল গ্রহণের জন্য একাধিক বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল এবং দাতারা বিশ্বব্যাংকের বিকল্প হিসেবে জেপি মরগান অ্যাকাউন্টটিকেই বেছে নিয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের মতো জেপি মরগান তাদের অর্থনৈতিক অবস্থান দাতা কিংবা বোর্ড সদস্যদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরতে বাধ্য নয়। তবে বোর্ড অব পিস তাদের নিজস্ব নির্বাহী বোর্ডের কাছে যথাযথ সময়ে আর্থিক অবস্থা প্রকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস আরও জানিয়েছে, প্রশাসনিক খরচ চালানোর জন্য মরক্কো প্রায় ২ কোটি ডলার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ২ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছে। এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত গাজার নতুন পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য আরও ১০ কোটি ডলার দিলেও সেই তহবিলটি বর্তমানে স্থির (ফ্রিজ) হয়ে আছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি এখনও শুরু করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র: আলজাজিরা
আরআই/টিএ