ভারতজুড়ে ঈদুল আজহা পালিত
ছবি: সংগৃহীত
০১:০৪ পিএম | ২৮ মে, ২০২৬
সাম্য, ত্যাগ ও মানবিকতার অনন্য বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার গোটা ভারতে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব এই দিনটি 'কোরবানির ঈদ' নামেও পরিচিত। আরবি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ভারতের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা উদযাপন করছেন এই পবিত্র উৎসব।
এদিন সকাল থেকে কলকাতার নাখোদা মসজিদ, টিপু সুলতান মসজিদ, পার্ক সার্কাস ময়দান সহ বিভিন্ন মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।
ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ কলকাতায় ঈদ-উল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রথমবারের মতো রেড রোডের বদলে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। হাজার হাজার মুসল্লী পবিত্র ঈদ-উল-আজহার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তারা একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
কলকাতার রেড রোডের ঈদের জামাত দেশের অন্যতম বৃহৎ জামাত হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর সহস্রাধিক মুসল্লির উপস্থিতিতে সেখানে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতা আসার পর এবার সেই ঐতিহ্যের নতুন ঠিকানা ছিল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড।
প্রথমবারের আয়োজনে ব্রিগেড ময়দানে নামাজের জন্য তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ ইমামতি মঞ্চ। গোটা মাঠজুড়ে বসানো হয়েছিল শতাধিক লাউডস্পিকার, যাতে দূরবর্তী মুসল্লিরাও সহজে খুতবা ও নামাজে অংশ নিতে পারেন। মুসল্লিদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই প্রথম ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ছিল অস্থায়ী শৌচাগার ও গাড়ি পার্কিংয়ের বিশেষ ব্যবস্থা।
ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যৌথভাবে কাজ করেছে কলকাতা পুলিশ এবং খিলাফত কমিটি। খিলাফত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইশতেক আহমেদ জানান, রেড রোড মুসলিম সম্প্রদায়ের আবেগ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ১৯২০ সাল থেকেই খিলাফত কমিটি কলকাতায় ঈদের নামাজের আয়োজন করে আসছে। পরে ১৯৭৮ সাল থেকে নিয়মিতভাবে রেড রোডে বৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হতে শুরু করে এবং ২০২৫ সাল পর্যন্ত সেই ধারাই বজায় ছিল। তবে এবার নতুন সরকারের আমলে সেই আয়োজন স্থানান্তরিত হয়েছে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে।
নতুন এই ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়েছেন বহু নামাজি। তাদের বক্তব্য, রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডও কলকাতার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বহু রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনার সাক্ষী এই মাঠে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ঈদুল আজহার প্রধান জামাত, যা এবারের ঈদকে আরও বিশেষ তাৎপর্য এনে দিয়েছে। এদিকে কলকাতা ছাড়াও রাজ্যটির বিভিন্ন জেলাতেও এই দিনটি পালিত হচ্ছে। এউপলক্ষে কোনরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।
মুসলিমদের কাছে এই দিনটি ত্যাগের। স্বভাবতই নামাজ পাঠের পরই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা নিজেদের সাধ্যমত পশু কোরবানি দেন। পশ্চিমবঙ্গে পশু কোরবানির ক্ষেত্রে গুরু কোরবানির উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকায় বিতর্ক এড়াতে গরুর বদলে ছাগল, দুম্বা কুরবানী দিয়েই ঈদ পালন করেছে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি দিল্লি, হায়দরাবাদ, মুম্বাই উত্তরপ্রদেশ, অসম, ত্রিপুরা, জম্মু কাশ্মীর, বিহার সহ দেশের প্রতিটি জায়গায় যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে ঈদ-উল-আযহা।
ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদরা, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ রাজনৈতিক নেতারা। ঈদুল আজহা উপলক্ষে জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এক্স হ্যান্ডালে মোদি লেখেন 'ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা! এই উপলক্ষটি আমাদের সমাজে ভাতৃত্ব ও আনন্দের চেতনাকে আরও গভীর করুক। সকলের সাফল্য ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করছি।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভারতের বেশিরভাগ অংশে বকরিদ উদযাপিত হলেও, জম্মু ও কাশ্মীরের কিছু অংশসহ কয়েকটি অঞ্চলে সৌদি আরবের সাথে সমন্বয় রেখে বুধবার এই উৎসবটি পালিত হয়েছে।
এসএন