© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ম্যাথিউ পেরির মৃত্যু মামলায় সহকারীর ৪১ মাসের কারাদণ্ড

শেয়ার করুন:
ম্যাথিউ পেরির মৃত্যু মামলায় সহকারীর ৪১ মাসের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:১৪ এএম | ২৯ মে, ২০২৬
ম্যাথিউ পেরির মৃত্যুর আড়াই বছর পর অবশেষে শেষ হলো বহুল আলোচিত সেই আইনি লড়াই। ‘ফ্রেন্ডস’খ্যাত এই হলিউড অভিনেতার মৃত্যুকে ঘিরে যে রহস্য, বিতর্ক আর তদন্তের জাল তৈরি হয়েছিল, তার চূড়ান্ত পরিণতি এলো এবার আদালতের রায়ে। অভিনেতার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী কেনেথ ইওয়ামাসাকে ৪১ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন মার্কিন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই বছরের তত্ত্বাবধানে রাখা এবং ১০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর নিজের বাড়ির বাথরুমের হট টাবে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ৫৪ বছর বয়সী ম্যাথিউ পেরিকে। প্রথমদিকে তার মৃত্যু নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য। কেটামিন নামের একটি ওষুধের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় পানিতে ডুবে মারা যান অভিনেতা। এরপরই শুরু হয় বিস্তৃত তদন্ত।

তদন্তে বেরিয়ে আসে, কোনো ধরনের চিকিৎসা প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্স ছাড়াই কেনেথ ইওয়ামাসা নিয়মিত পেরির শরীরে কেটামিন ইনজেকশন পুশ করতেন। মৃত্যুর দিনও তিনি অভিনেতাকে পরপর তিনটি ইনজেকশন দেন। এরপর জরুরি কাজে বাড়ির বাইরে চলে যান। কিছু সময় পর ফিরে এসে হট টাবে উপুড় হয়ে ভাসতে থাকা পেরির মরদেহ দেখতে পান তিনি।



ম্যাথিউ পেরির মৃত্যুর ঘটনায় ২০২৪ সালে ইওয়ামাসাসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, তারা অবৈধভাবে কেটামিন সংগ্রহ ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছিলেন ইওয়ামাসা। তবে শুনানিতে তার আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি কেবল নিয়োগকর্তার নির্দেশ পালন করছিলেন এবং মাদকাসক্ত পেরিকে বাধা দেওয়ার অবস্থানে ছিলেন না। কিন্তু সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি বিচারক।

গত বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে এই সাজা ঘোষণা করা হয়। আগামী ১৭ জুলাই থেকে তার কারাদণ্ড কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।

এই মামলায় এর আগেই অন্যতম মূল অভিযুক্ত জাসভিন সাংঘাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ‘কেটামিন কুইন’ নামে পরিচিত এই নারীকে অবৈধ মাদক চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এছাড়া ঘটনায় জড়িত দুই চিকিৎসক ও অন্য সহযোগীরাও বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ভোগ করছেন।

একসময় কোটি দর্শককে হাসিয়েছেন ম্যাথিউ পেরি। কিন্তু তার মৃত্যুর পেছনের বাস্তবতা ছিল গভীর অন্ধকারে মোড়া। সেই অন্ধকারের দায় কার কাঁধে, তা নিয়েই চলেছে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। অবশেষে শেষ আসামির সাজা ঘোষণার মধ্য দিয়ে বন্ধ হলো হলিউডের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত মৃত্যুর এক অধ্যায়।

এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন