ওপেন রিলেশনশিপ নিয়ে কী বললেন অভিনেত্রী শাহানা গোস্বামী?
ছবি: সংগৃহীত
১১:২৭ পিএম | ২৯ মে, ২০২৬
‘রক অন!’ খ্যাত অভিনেত্রী শাহানা গোস্বামী সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ওপেন রিলেশনশিপ নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে তার কোনো ‘প্রাইমারি পার্টনার’ নেই। তিনি ভালোবাসা ও বন্ধুত্বকে সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখেন। ইউটিউবে সিদ্ধার্থ কান্নানের পডকাস্টে শাহানা বলেন, ওপেন রিলেশনশিপ মানে হলো যার সঙ্গে সম্পর্ক আছে তার সঙ্গে খোলামেলা ও সৎ যোগাযোগ রাখা। আপনার সঙ্গী কেমন মানুষ, সেটা সত্যিকারে বোঝা এবং নিজেকে নিয়েও কাজ করা। এই মুহূর্তে আমার একজন নির্দিষ্ট সঙ্গীও নেই। অনেক মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু সেগুলো একেবারেই ক্যাজুয়াল নয়।
তিনি আরও বলেন, আমার কাছে ওপেননেস মানে হলো কারও সঙ্গে বাঁধাধরা সম্পর্ক না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সংযোগ ও বন্ধন থাকা। কখনো সেটা শুধু বন্ধুত্ব, কখনো শারীরিক সম্পর্কও হতে পারে। সম্পর্ককে নির্দিষ্ট কোনো কাঠামোয় ফেলতে হবে, এমন নয়। মূল বিষয় হলো ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব।

শাহানা জানান, তার সম্পর্কগুলোতে কোনো গোপনীয়তা নেই। তার সঙ্গীরা জানেন যে তিনি অন্যদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ হন। ওপেন রিলেশনশিপে ‘ঘোস্টিং’ বা হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, তার ক্ষেত্রে এমনটা হয় না।
তার ভাষায়, আমি মানুষকে এড়িয়ে যাই না। আসলে বিষয়টা হঠাৎ করে তৈরি হয় না। এটা সহজও নয়। বাইরে থেকে সহজ মনে হলেও নিজের ঈর্ষা ও নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। তিনি আরও বলেন, আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি ভালোবাসা স্বাধীন হওয়া উচিত। এটা যেন কাউকে আটকে রাখার বিষয় না হয়। এই বিশ্বাসই আমার সম্পর্কের ধরন নির্ধারণ করেছে।
একই সাক্ষাৎকারে শাহানা গোস্বামী মডেল-অভিনেতা মিলিন্দ সোমানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন। তখন মিলিন্দের বয়স ছিল ৪৩, আর শাহানা ছিলেন বিশের কোটায়। শাহানা স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি যখন ১৬-১৭ বছরের, তখন দিল্লিতে ছিলাম। মিলিন্দের একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। বন্ধুরা মিলে দেখতে গিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম একজন মডেলের অভিনয় নিশ্চয়ই খারাপ হবে। কিন্তু সিনেমায় তাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই।
তিনি জানান, এরপর ইন্টারনেটে খুঁজতে খুঁজতে মিলিন্দ সোমানের ফোন নম্বর পেয়ে যান। জন্মদিনে তাকে মেসেজ পাঠালে মিলিন্দ সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেন। শাহানা বলেন, আমি তখন একরকম স্টকার ভক্ত ছিলাম। ছয় বছর শুধু টেক্সটেই যোগাযোগ ছিল, ফোনেও কথা হয়নি। পরে আমরা দু’জনই সিঙ্গেল থাকাকালে আবার যোগাযোগ হয় এবং সম্পর্ক শুরু হয়।
তবে ২০১৩ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের কারণ ব্যাখ্যা করে শাহানা বলেন, শেষ পর্যন্তও আমরা একে অপরকে ভালোবাসতাম। কিন্তু যখন দেখলেন সম্পর্কটা আর তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে না, তখন সেটাকে ছেড়ে দিতেই হয়। তিনি আরও বলেন, আমি বুঝতে পারছিলাম আমি প্রচলিত ধরনের সম্পর্কে থাকতে পারি না। আমি ভালোবাসায় গভীরভাবে বিশ্বাস করি, কিন্তু স্বাধীনতাতেও বিশ্বাস করি। কাউকে নিজের কাছে আটকে রাখা ভালোবাসা নয়।
শাহানা গোস্বামী ২০০৮ সালের ‘রক অন!’ সিনেমার মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান। পরে ‘ফিরাক’, ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’-এর মতো মূলধারা ও ভিন্নধর্মী সিনেমায় প্রশংসিত অভিনয় করেন। তার অভিনীত ‘সন্তোষ’ ২০২৪ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হলেও সেন্সর জটিলতার কারণে ভারতে মুক্তি পায়নি। সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে হিন্দি সিনেমা ‘ডেসপ্যাচ’-এ।
আরআই/এসএন