© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, দাবি ইরানের

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, দাবি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:৫০ এএম | ৩০ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত থাকলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা বোঝাপড়া হয়নি বলে জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে কোনো ধরনের নির্দেশ নেওয়ার বিষয়টি সাফ নাকচ করে দিয়েছে তেহরান।

শুক্রবার (২৯ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আমরা ৪৭ বছর আগেই অবশ্যই করতে হবে এমন আদেশের ভাষাকে বিদায় জানিয়েছি। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে কথা বলার সময় পশ্চিমা কোনো পক্ষই এই আদেশের ভাষা ব্যবহার করতে পারবে না। আমরা আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ইরানি জনগণের স্বার্থ ও অধিকারের ওপর ভিত্তি করেই নিয়ে থাকি।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ট্রাম্পের এমন দাবির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এলো।

মার্কিন সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলোকে শুরু থেকেই অবৈধ বলে আখ্যায়িত করেন বাঘাই। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপগুলো গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা-উভয় নীতিই লঙ্ঘন করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমাদের বাস্তবে দেখতে হবে যে তারা সত্যিই তাদের কথার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে নাকি এটি কেবলই একটি প্রচারণামূলক দাবি। যদি তারা এটি (অবরোধ প্রত্যাহার) করে, তার অর্থ হবে কয়েক সপ্তাহ আগে তারা যে ভুল পদক্ষেপ শুরু করেছিল এবং যা তাদের কখনই করা উচিত হয়নি, তা থেকে তারা পিছু হটেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে শুরু হওয়া ৪০ দিনব্যাপী মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর, তেহরান তার শত্রু রাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এরপর গত মাসে ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প অবরোধের ঘোষণা দিলে, ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রণালিতে অনেক বেশি কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ শুরু করে। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন একতরফাভাবে যে অবরোধের মেয়াদ বাড়িয়েছে, তা যুদ্ধবিরতির শর্তাবলির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।

বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং কাতারের সহযোগিতায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। ইরানের ১৪ দফার প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে এই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটানো, মার্কিন নৌ-আগ্রাসন বন্ধ করা এবং ইরানের ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা সম্পদ পুনরুদ্ধার করা।

ইসমাইল বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরান এবং ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। তিনি বলেন, আমরা একটি বিশেষ পরিস্থিতির মুখোমুখি এবং এই অভিজ্ঞতাকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।

তিনি আরও যোগ করেন, উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরান ও ওমান-দুই দায়িত্বশীল দেশ অবশ্যই এমন একটি প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে যা তাদের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষা করবে। একই সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আশ্বাস দেবে যে, এই রুটে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিরাপদ। এটি অত্যন্ত স্বতঃসিদ্ধ।

তবে এই মুহূর্তে ইরান কেবল যুদ্ধ অবসানের দিকেই মনোনিবেশ করছে উল্লেখ করে বাঘাই স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে এই মুহূর্তে আমাদের কোনো আলোচনা চলছে না।

সূত্র: প্রেস টিভি

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন