© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিখ্যাত ‘কেনেডি সেন্টার’ থেকে ট্রাম্পের নাম মুছে দেয়ার নির্দেশ

শেয়ার করুন:
বিখ্যাত ‘কেনেডি সেন্টার’ থেকে ট্রাম্পের নাম মুছে দেয়ার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৫৫ এএম | ৩০ মে, ২০২৬
ওয়াশিংটনের বিখ্যাত 'কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস'-এর নাম থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত।

শুক্রবার (২৯ মে) এক রায়ে ডিস্ট্রিক্ট জজ ক্রিস্টোফার কুপার জানান, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা যাবে না। একই সঙ্গে আসন্ন সংস্কারকাজের জন্য কেন্দ্রের সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্তও স্থগিত করেছেন আদালত।

রায় অনুযায়ী, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের নাম, ভবনের সম্মুখভাগ এবং যেকোনো ধরনের ডিজিটাল ও ভৌত সাইনেজসহ সব আনুষ্ঠানিক নথিপত্র থেকে ট্রাম্পের নাম মুছে ফেলতে হবে।

গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে বিভিন্ন পুনর্নামকরণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানে নিজের নাম যুক্ত করার ঘোষণা দেন। এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি কেন্দ্রের বোর্ডের কয়েকজন ট্রাস্টিকে পরিবর্তন করে নিজেকে ট্রাস্টি হিসেবে নিয়োগ দেন এবং পরে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গত ডিসেম্বরে বোর্ড প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরদিনই কেন্দ্রের প্রধান তোরণে ট্রাম্পের পুরো নাম সংবলিত নতুন লিপি যুক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পুরো নাম নির্ধারণ করা হয়েছিল 'দ্য ডোনাল্ড জে ট্রাম্প অ্যান্ড জন এফ কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস'। নাম পরিবর্তন ও অন্যান্য পদক্ষেপের পর অনেক শিল্পী তাদের বুকিং বাতিল করেন এবং টিকিট বিক্রিও কমে যায়। পরবর্তীতে দেশের ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৬ সালের ৪ জুলাই থেকে ব্যাপক সংস্কারকাজের জন্য কেন্দ্রটি দুই বছরের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

বোর্ডের সদস্য ও ওহিওর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান জয়েস বিটি এবং অন্যান্য সাবেক ট্রাস্টিরা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, বোর্ড সভায় তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পরে সংস্কারের জন্য কেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্তকেও এই মামলায় চ্যালেঞ্জ করা হয়। আদালতের রায়ের পর জয়েস বিটি এক বিবৃতিতে বলেন, এই রায় প্রমাণ করেছে যে প্রশাসনের নাম পরিবর্তন ও কেন্দ্র বন্ধের উদ্যোগের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। কেনেডি সেন্টার মার্কিন জনগণের প্রতিষ্ঠান, ট্রাম্পের নয়। ওবামা আমলের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার তাঁর ৯৪ পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, আইন অনুযায়ী এই কেন্দ্রটি স্পষ্টভাবেই প্রেসিডেন্ট কেনেডির নামে করার কথা বলা হয়েছে এবং বোর্ডের একক সিদ্ধান্তে এর অন্য কোনো নাম বা স্মারক হতে পারে না। কংগ্রেস এই নাম দিয়েছে এবং কেবল কংগ্রেসই এটি পরিবর্তন করতে পারে। ফলে আদালতের আদেশে কেন্দ্রটির নাম আবারও আগের মতো 'জন এফ কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস' হয়ে যাবে, যা ১৯৬৩ সালে আততায়ীর হামলায় নিহত মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্মরণে ১৯৭১ সালে প্রথম চালু হয়েছিল।

আদালতের এই আদেশের পর কেনেডি সেন্টারের মুখপাত্র রোমা দারাভি এক বিবৃতিতে জানান, তারা নাম পরিবর্তনের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। ট্রাম্পের ঐতিহাসিক অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার বোর্ডের সিদ্ধান্তটি আপিল বিভাগ বহাল রাখবে বলে তারা আশাবাদী। কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিষয়টিও তারা পর্যালোচনা করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রের জরুরি সংস্কার প্রয়োজন এবং ট্রাম্পের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া ও কংগ্রেস কর্তৃক অনুমোদিত ২৫৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তিনি এই ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানটি কংগ্রেসের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করবেন। নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আর্থিক ও শৈল্পিক দিক থেকে এই প্রতিষ্ঠানকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়ার স্বাধীনতাই যদি না থাকে, তবে এই হতাশাজনক যাত্রায় যুক্ত থাকার কোনো আগ্রহ তাঁর নেই।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন