সেলিনা-পিটারের বিচ্ছেদ মামলায় নতুন মোড়
ছবি: সংগৃহীত
০১:৪১ পিএম | ৩১ মে, ২০২৬
বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি ও তার স্বামী পিটার হগের বিচ্ছেদ মামলা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চলমান এই মামলায় সেলিনার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে এবার দুটি পৃথক আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুম্বাইভিত্তিক আইন সংস্থা ‘সেমওয়াল অ্যান্ড কোম্পানি’ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, একটি নোটিশ পাঠিয়েছেন পিটার হগের বাবা এবং অন্যটি পাঠিয়েছেন পিটার নিজেই।
অভিযোগ করা হয়েছে, বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে সেলিনা এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা পরিবারের সম্মান ও সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। এসব মন্তব্যকে মানহানিকর, বিভ্রান্তিকর ও চাঞ্চল্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নোটিশে বলা হয়েছে, এতদিন বিষয়টি পারিবারিক পর্যায়ে রেখে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল পরিবারের। তবে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সেলিনা প্রকাশ্যে বিভিন্ন অভিযোগ করে যাচ্ছেন। এ কারণে তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
পিটার ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সেলিনার সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে গার্হস্থ্য সহিংসতা, মানসিক নির্যাতন, হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সন্তানদের দূরে সরিয়ে রাখা, তাদের মগজধোলাই করা এবং ধর্ম বা উগ্রপন্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার মতো অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তাদের সামাজিক মর্যাদার ক্ষতি করেছে।
তাদের মতে, সন্তানদের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এ ধরনের বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনা না করে সতর্কতার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পরিচালনা করা উচিত।
অন্যদিকে, সেলিনা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে, ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তিনি নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গত বছর তিনি পিটার হগের বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন এবং ৫০ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
অভিনেত্রীর অভিযোগ, পিটার তার প্রতি অত্যন্ত নিষ্ঠুর আচরণ করতেন এবং সবসময় তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতেন। তিনি গার্হস্থ্য সহিংসতারও শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
সেলিনার অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, ‘তিন সন্তান বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে বাবার কাছে। সন্তানদের সঙ্গে সবরকম যোগাযোগ ছিন্ন করতে বাধ্য করেছেন পিটার।’
এ ছাড়া নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন, অস্বাভাবিক যৌন আচরণ এবং অন্য পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক করতে বাধ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন এই অভিনেত্রী। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি মুম্বাইয়ে তার অস্ট্রিয়ান স্বামী পিটার হগের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন।
তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন এবং উভয়পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ফলে বিচ্ছেদ মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর সবার।
কেএন/এসএন