দাবি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেরক্ষমতার কেন্দ্রে আইআরজিসি, সরে দাঁড়াতে চান পেজেশকিয়ান
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৫৬ এএম | ০১ জুন, ২০২৬
ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে সরকার কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট কঠোরপন্থি কমান্ডারদের হাতে বাস্তব ক্ষমতা চলে যাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Iran International এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সম্প্রতি সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন- দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রেসিডেন্ট ও সরকারের ভূমিকা ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে একটি ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে আইআরজিসির কঠোরপন্থি অংশ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন এবং সরকার পরিচালনা করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলেই তিনি অবিলম্বে পদত্যাগের অনুমতি চেয়েছেন। তবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক মাস ধরে ইরানের বেসামরিক প্রশাসন ও সামরিক-নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে টানাপোড়েন বাড়ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আইআরজিসি ধীরে ধীরে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে, যার ফলে প্রেসিডেন্টের প্রশাসন নীতিনির্ধারণ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট, আন্তর্জাতিক চাপ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ভেতরে মতবিরোধ আরও প্রকট হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের খবর দেশটির শাসনব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবু এই খবর সত্য হলে তা দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতার স্তরে গভীর রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এমআর/টিএ