প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা শতভাগ বাস্তবায়ন হবে, দেখতে চান জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত
০৯:১৩ পিএম | ০১ জুন, ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় সংসদ নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রামিসার হত্যাকারীদের ১৫ দিনের মধ্যে বিচার বাস্তবায়নের ঘোষণা আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাদের বাসায় গিয়ে দিয়ে এসেছেন। আমরা দেখতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর এই ওয়াদাটা শতভাগ বাস্তবায়ন হবে। এটি যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ খুশি হবে এবং ওনার জন্য দোয়া করবেন। আমরা ওনার জন্য দোয়া করতে চাই এবং দেখতে চাই ১৫ দিনের মধ্যে এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার সম্পন্ন হবে।
আজ (সোমবার) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রামিসা হত্যাকাণ্ডে শোকাহত ও বর্তমানে অসুস্থ রামিসার বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমি বিশ্বাস করি, যদি বিচার বিভাগ সঠিকভাবে কাজ করে, তাহলে ১৫ কার্যদিবসে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। অন্তত বিচারিক আদালতের কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব। তারপর রায় দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য হাইকোর্টে পাঠাতে হবে। সেখানেও উদাহরণ সৃষ্টির জন্য ১ মাসের মধ্যে কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব। আমি আইনজীবীদের অনুরোধ করব, আত্মস্বীকৃত এ ধরনের বদমাইশদের পক্ষে কোনো আইনজীবী যেন আদালতে না দাঁড়ায়। আমি আহ্বান জানাব, এটা নিয়ে কেউ যেন কোনো রাজনীতি না করেন। এটা আমাদের ইজ্জত বাঁচানোর লড়াই। এই মেয়ে আমাদের ক্ষমা করবে না, যদি তার হত্যাকারীদের বিচার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়ে রায় কার্যকর না হয়। হাশরের দিন আমরা সবাই আসামি হয়ে যাব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বারবার বলছি, আমরা দেশে এ ধরনের ঘটনা আর দেখতে চাই না, কিন্তু এগুলো হয়েই চলছে। এগুলো বন্ধ না হওয়ার মূল কারণ হলো বিচারের নামে অবিচার, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা এবং বিচারের নামে তামাশা। এর কারণে বিচারের প্রতি মানুষের কোনো আস্থা নেই। রামিসার বাবাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তখন তিনিও বলেছেন, আমি কার কাছে বিচার চাইব। বিচারের প্রতি যে এই অনাস্থা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের হস্তক্ষেপের কারণে, আমরা চাই এই অনাস্থার সংস্কৃতি থেকে বিচারবিভাগ বের হয়ে আসুক। বিচারবিভাগ শতভাগ স্বাধীন হোক এবং স্বাধীনভাবে তারা ন্যায়বিচার করুক।
তিনি বলেন, আমরা সারা বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে দাবি জানাই, রামিসার হত্যাকারীদের বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হোক। যেহেতু সে স্বীকার করে নিয়েছে এবং এখানে অন্য কোনো আলামতের প্রয়োজন নেই, আলামত স্পষ্ট। সে এবং তার স্ত্রী এখান থেকে কোনোভাবেই রক্ষা পেতে পারে না। এই দুইজনকেই বিচারের আওতায় আনতে হবে। এখন ধানাইপানাই করার জন্য আরও কারো নাম বলতে পারে, বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা করার জন্য এটি একটি চক্রান্ত। কোনো শয়তান হয়ত এগুলো শিখিয়ে দিতে পারে।
জামায়াত আমির বলেন, আগামী ৭ তারিখ বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। ওই দিনই আমরা সংসদে রামিসার হত্যাকারীদের বিচারের বিষয়টি তুলে ধরব। সংসদে শুধু রামিসার জন্যই নয়, এই দেশের প্রত্যেকটি মেয়ের বাবা হয়ে, দাদা হয়ে, নানা হয়ে আমি দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ। এ লড়াইয়ে ইনশাআল্লাহ আমরা বিজয়ী হবই। আমরা দোয়া করি, রামিসাকে আল্লাহ জান্নাতের পাখি হিসেবে কবুল করুক। তার বাবা-মা দুজনেই অসুস্থ, আল্লাহ যেন তাদেরকে সুস্থতা দান করেন।
টিকে/