‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর রিভিউ, মুগ্ধ নেটিজেনরা
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩৬ এএম | ০২ জুন, ২০২৬
ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমী রিভিউ লিখেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
সোমবার (১ জুন) রাত ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে হাসনাতের এই রিভিউ নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে লিখিত ওই রিভিউতে তিনি সিনেমার গল্প, চরিত্র এবং মানবজীবনের দর্শনকে এক সূত্রে গেঁথে উপস্থাপন করেন। তার লেখায় সিনেমাটিকে কেবল বিনোদন নয়, বরং জীবনের বহুমাত্রিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
স্ট্যাটাসে হাসনাত আব্দুল্লাহ সিনেমার একটি দৃশ্যের প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, “অসুস্থ এক মায়ের জন্য হেলিকপ্টার আনার আবদার শুনে মন্ত্রী মহোদয় অবাক হলেন। বললেন, ‘একটা মামুলি বিষয়কে আপনি এত বড় কেন করছেন?’ গণিতের প্রফেসর রশিদ উদ্দিন উত্তর দিলেন, ‘মন্ত্রী সাহেব, মামুলি বিষয়কে বড় করে তোলাই তো মানুষের কাজ!’”
তার মতে, ‘বনলতা এক্সপ্রেস মুভিতেও আসলে একই কাজ করা হয়েছে। ছোট ছোট গল্প দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে অনেকগুলো মানুষের জীবনকে, তাদের দুঃখকে। সিনেমাটা দেখার পর বনলতা এক্সপ্রেসকে আপনার আর ট্রেন মনে হবে না; মনে হবে জীবন্ত দুঃখের এক বাহন, যার একেকটা বগি একেকটা দুঃখ দিয়ে ভর্তি।’
‘ডাক্তার আশাব’ চরিত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, ‘ম্যাজিক দেখানো, মায়ের সঙ্গে মজা করা হাসিখুশি ছেলেটাও একটা পর্যায়ে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে বলল— ‘না পারলাম ভালো মানুষ হইতে, না পারলাম ভালো ডাক্তার হইতে…।’
হাসনাত লেখেন, ‘যেই ট্রেনে একজন তরুণ কফিনে চড়ে যাচ্ছে ঠিক একই ট্রেনে একজন তরুণী জীবন নতুনভাবে শুরু করছে। একটি বিদায়ের দিকে, অন্যটি আগমনের দিকে। শেষ আর শুরুকে একই রেখায় বেঁধে। সেই একই রেললাইনে বসে গণিতের প্রফেসর কান্নায় ভেঙে পড়ে বললেন, হোল ওয়ার্ল্ডে আমি ম্যাথে জায়ান্ট নাম্বার এইট, কিন্তু ম্যাথ আমার হাতে নাই, ম্যাথ আমার হাতে নাই...।’
রিভিউতে হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘ম্যাথ কি আসলে আমাদের কারও হাতেই থাকে? নাকি আমাদের সকল ম্যাথের সমাধান নিয়ে ওপরে একজন বসে থাকেন আর আমাদের হিসাব মেলানোর ছোটোছুটি দেখেন?’
স্ট্যাটাসে তিনি জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী জীবনকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লেখেন, ‘জানাজার নামাজের কোনো আজান হয় না। কারণ জন্মের সময়ই আমাদের কানে আজান দিয়ে দেওয়া হয়। জন্মের সময় আজান আর মৃত্যুর সময় তার নামাজ। এর মাঝখানের সময়টুকুই আমাদের জীবন।’
রিভিউতে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটিকে আমাদের গল্পই উল্লেখ করে কুমিল্লা-৪ আসনের এ এমপি বলেন, ‘এই বনলতা এক্সপ্রেস আমার গল্প, আমাদের গল্পই। জন্মের আজান, মৃত্যুর জানাজা, হারানোর দুঃখ কিংবা পাওয়ার আনন্দ— সব নিয়েই আমাদের জীবন। বারবার হাঁটু গেড়ে পড়ে যাওয়ার পরও আবার উঠে দাঁড়িয়ে ছুটে চলাই মানবজাতির নিয়তি।’
তার এই দীর্ঘ স্ট্যাটাস প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই তার লেখার প্রশংসা করেন।
একজন মন্তব্যে লেখেন, ‘মুভির রিভিউটা সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।’ আরেকজন লেখেন, ‘মুভি রিভিউয়ের মাধ্যমে হয়ে গেল প্রতিবাদ!’ কেউ কেউ লেখাটিকে ‘এক ঢিলে দুই পাখি’— মুভি রিভিউ হিসেবে অভিহিত করেন।
রাইসুল ইসলাম আখন্দ নামে একজন লেখেন, ‘ভাই, লেখাটা পড়ে মনে হলো, আমরা সবাই হয়তো একই ট্রেনের ভিন্ন বগির যাত্রী!’
তাহমিদ আহমেদ অফিশিয়াল থেকে একজন মন্তব্যে লেখেন, ‘ভাই এত কাজ করার পরও আপনি একটা গোটা সিনেমা দেখার সময় পান কীভাবে?’
নিয়মিত লেখার আবদার জানিয়ে একজন লেখেন, ‘আপনার লেখা পড়লে আফসোস লাগে ভাই, আপনি কেন নিয়মিত লেখেন না সেটা নিয়ে, যদিও সময় হয় না ব্যস্ততায়, তবুও আপনার লেখা জোস! এই সিনেমা আমি দুবার দেখছি, সিনেপ্লেক্সে বসেই। তবুও আমার মাথায় এত সুন্দর চিন্তা আসেনি।’
সাদ্দাম হোসেন নামে একজন লিখলেন, ‘একইসঙ্গে মুভি রিভিউও হয়ে গেল, প্রতিবাদও। এক ঢিলে দুই পাখি৷ আপনি একটা ‘পলিটিক্যাল জিনিয়াস!’ রাজনীতির জটিল সমীকরণের মাঝে লেখালেখিটাকে হারাতে দিয়েন না, বাঁচিয়ে রাইখেন। এটার দরকার আছে।’
উল্লেখ্য, ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত বাংলাদেশি সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নির্মাণ করেছেন তানিম নুর। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটি অ্যাডভেঞ্চার, রোমান্টিক ও কমেডি ঘরানার একটি চলচ্চিত্র।
সম্প্রতি সিনেমাটির প্রদর্শনী ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে সিনেমাটির রিভিউ আরও একবার আলোচনায় নিয়ে এসেছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’কে।
টিজে/টিকে