হরমুজের মতো বাব এল মান্দেব প্রণালীও বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত
১০:২৩ এএম | ০২ জুন, ২০২৬
আমেরিকার সুরক্ষায় থেকে ইহুদিবাদী ইসরায়েল যদি লেবানন ও গাজায় তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে, তবে হরমুজ প্রণালীর মতোই বাব এল মান্দেব প্রণালিতেও একই ধরনের নৌ-চলাচল নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসমাঈল কায়ানি।
মঙ্গলবার (২ জুন) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য সমর্থনে দক্ষিণ লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলিদের এই অপকর্ম প্রতিরোধ অক্ষকে (অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স) উভয় ফ্রন্টে সমর্থন বাড়াতে, নতুন নতুন ফ্রন্ট সক্রিয় করতে এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নৌ-চলাচল পরিস্থিতিকে হরমুজ প্রণালীর সমপর্যায়ে নিয়ে আসতে বাধ্য করবে। জেনারেল কায়ানি স্পষ্ট করে বলেন, 'দেউলিয়া জায়নবাদী শাসনের জানা উচিত যে, দক্ষিণ লেবানন ও গাজায় একই সাথে অপরাধযজ্ঞ চালানো তাদের হিজবুল্লাহর অভিযান এবং ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের নতুন ঝড়ের ঘূর্ণিপাকে আটকে ফেলবে।'
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেইকে হত্যা এবং দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা, স্কুল ও হাসপাতালে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কুদস ফোর্স প্রধানের এই নতুন হুঁশিয়ারি সামনে এলো। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ইরান 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪'-এর আওতায় ইসরায়েলে ১০০ দফায় প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এরপর এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন ও গাজা উপত্যকায় তাদের বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে, যাতে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিপরীতে ইরান শুরু থেকেই জোর দিয়ে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে শত্রুতার সম্পূর্ণ অবসান অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, ইয়েমেন এবং হর্ন অব আফ্রিকার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত বাব আল-মান্দাব প্রণালীটি বৈশ্বিক নৌ-পরিবহন, বিশেষ করে তেল ট্যাংকার চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। ফিলিস্তিন ও ইরানের সাথে সংহতি জানিয়ে প্রতিরোধ অক্ষের অন্যতম প্রধান সদস্য ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলন এর আগেও এই প্রণালীতে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।
এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের হুমকির মুখে ইরানের সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড ইউনিট ইতিমধ্যেই অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের উত্তরাঞ্চল এবং সামরিক বসতিগুলোতে বসবাসকারী ইসরায়েলি নাগরিকদের এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে।
সূত্র: প্রেস টিভি
টিজে/টিকে