বিশ্বকাপে পর্তুগালকে বাড়তি শক্তি যোগাবে জোটার স্মৃতি: নেভেস
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩০ এএম | ০২ জুন, ২০২৬
ডিয়েগো জোটা পর্তুগাল ও লিভারপুলে এতটাই ছাপ রেখেছেন যে, মৃত্যুর প্রায় এক বছর পরেও সতীর্থ ও সমর্থকদের স্মৃতি থেকে মুছে যাচ্ছে না তার নাম। আগামী বিশ্বকাপে তাকে হৃদয়ের কোণে রেখেই মাঠে লড়বে পর্তুগাল। সাবেক এই ফরোয়ার্ডের স্মৃতি থেকে শক্তি সঞ্চয় করতে চায় তারা, বললেন তার সতীর্থ রুবেন নেভেস।
লিভারপুলের তারকা খেলোয়াড় জোটা গত বছর ৩ জুলাই স্পেনে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এর কিছুদিন আগেই তিনি পর্তুগিজদের উয়েফা নেশন্স লিগ ট্রফি জিততে সাহায্য করেছিলেন।

জাতীয় দলের পাশাপাশি এফসি পোর্তো ও উলভারহ্যাম্পটন-উভয় ক্লাবেই একসঙ্গে খেলার কারণে জোটার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন নেভেস। সোমবার তাকে জোটার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে আল হিলালের এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে অনেক কথা বলেছি এবং সবসময় একই কথাই বলি। মাঝে মাঝে অতিরিক্ত শক্তি পাওয়ার জন্য আপনাকে কোনো কিছুর স্মৃতি আঁকড়ে ধরতে হয়। এটিই আমাদের নির্দিষ্ট কিছু মুহূর্তে সেই বাড়তি শক্তি যোগাবে এবং আমরা যেখানে পৌঁছাতে চাই, সেখানে যেতে সাহায্য করবে।’
২৯ বছর বয়সী নেভেস প্রায় এক বছর আগে স্পেনের বিপক্ষে পেনাল্টি শুট-আউটে জয়সূচক গোলটি করে পর্তুগালকে নেশন্স লিগ শিরোপা এনে দিয়েছিলেন।
সেই ম্যাচের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘ওই ম্যাচের পর আমি বলেছিলাম এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোল ছিল—যদি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ না-ও হয়। তাই এই বিশ্বকাপেও যদি এমন কিছু ঘটে এবং তা দলকে পরের রাউন্ডে যেতে বা টুর্নামেন্ট জিততে সাহায্য করে, তবে সেটি দারুণ হবে। তবে আমি ৯০ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচ জিততে পছন্দ করব, পেনাল্টিতে যেতে চাই না। আমরা একটি দল হিসেবে কী অর্জন করতে পারি সেদিকেই মনোযোগী।’
তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশ্রণে পাঁচবারের ব্যালন ডি'অর বিজয়ী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অধিনায়কত্বে পর্তুগাল দল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট।
নেভেস বলেন, ‘জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়ই এই ধরনের চাপ সামলাতে অভ্যস্ত। সম্প্রতি আমাদের চারজন খেলোয়াড় (নুনো মেন্দেস, ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস এবং গনসালো রামোস) প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে। আমাদের দলটি তরুণ হলেও বেশ অভিজ্ঞ।’
‘আমরা বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছি কারণ আমরা জানি আমাদের সেই মান রয়েছে এবং আমরা পর্তুগালের জন্য দুর্দান্ত কিছু অর্জন করতে পারি,’ বললেন এই পর্তুগিজ তারকা।
পর্তুগাল এর আগে কখনো বিশ্বকাপ জেতেনি। তাদের সেরা সাফল্য ছিল ১৯৬৬ সালে তৃতীয় স্থান অর্জন। নেভেসের ভাষায়, ‘আমাদের লক্ষ্য ফাইনালে পৌঁছানো, জেতা এবং হাতে বিশ্বকাপ নিয়ে দেশে ফেরা। ব্যক্তিগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ দল হিসেবে আমরা যা অর্জন করতে পারি, সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।’
ইউরো ২০১৬ চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল আগামী ১৭ জুন ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। এরপর ২৩ জুন তারা উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ ‘কে’-তে তাদের শেষ ম্যাচটি হবে ২৭ জুন কলম্বিয়ার বিপক্ষে।
আরআই/টিকে