জনপ্রিয় ও কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সুমন কল্যাণপুর আর নেই
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৪৭ পিএম | ০২ জুন, ২০২৬
উপমহাদেশের জনপ্রিয় ও কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সুমন কল্যাণপুর আর নেই। রবিবার (১ জুন) রাতে ভারতের মুম্বাইয়ে নিজ বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত পারিবারিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এই বরেণ্য শিল্পী। প্রায় এক মাসের বেশি সময় অসুস্থ থাকার পর মুম্বাইয়ের লোখান্ডওয়ালায় নিজ বাসভবনে স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
সুমন কল্যাণপুরের মৃত্যুতে ভারতীয় সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত-শ্রোতা, সহশিল্পী এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকেই তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, ভারতীয় সংগীত ও চলচ্চিত্রে সুমন কল্যাণপুরের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার গান আগামী প্রজন্মকেও মুগ্ধ করবে।
ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের স্বর্ণযুগের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠ ছিলেন সুমন কল্যাণপুর। ষাট ও সত্তরের দশকে অসংখ্য কালজয়ী গানে কণ্ঠ দিয়ে তিনি কোটি শ্রোতার হৃদয় জয় করেছিলেন। ‘ব্রহ্মচারী’ সিনেমার ‘আজকাল তেরে মেরে প্যায়ার কে চার্চে’, ‘জব জব ফুল খিলে’ ছবির ‘না না কারতে প্যায়ার’ এবং ‘রাজকুমার’ ছবির ‘তুমনে পুকারা অর হাম চলে আয়’ গানগুলো তাকে এনে দেয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
হিন্দি গানের পাশাপাশি বাংলা গানেও ছিল তার সমান সাফল্য। তার কণ্ঠে গাওয়া ‘মনে করো আমি নেই, বসন্ত এসে গেছে’ গানটি আজও সংগীতপ্রেমীদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। দীর্ঘ সংগীতজীবনে ১১টি ভাষায় প্রায় ৭৪০টি গান রেকর্ড করেছেন সুমন কল্যাণপুর। এর মধ্যে কিংবদন্তি গায়ক মোহাম্মদ রফির সঙ্গে তার ১৪০টিরও বেশি দ্বৈত গান বিশেষভাবে সমাদৃত। চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি ভজন, গজল এবং বিভিন্ন ধারার সংগীতেও তিনি দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন।
সুমন কল্যাণপুরের কণ্ঠের সঙ্গে প্রায়ই তুলনা করা হতো কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠের। তবে তিনি বরাবরই নিজের স্বতন্ত্র গায়কি ও পরিচয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে লতা মঙ্গেশকরকে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনে একমাত্র মেয়ে চারুকে রেখে গেছেন এই গুণী শিল্পী। মুম্বাইয়ে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
এসএ/টিকে