আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পথে বড় বাধা পর্তুগাল?
ছবি: সংগৃহীত
১২:২২ পিএম | ০৩ জুন, ২০২৬
দুই দশক ধরে ফুটবল বিশ্ব মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে আছে দুই জাদুকরের মাস্টারক্লাসে। লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এল ক্লাসিকোর উত্তাপ থেকে শুরু করে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের মহারথী হয়ে ব্যালন ডি’অর মঞ্চের শ্রেষ্ঠত্ব।
ফুটবল দুনিয়ার সব বড় মঞ্চই তারা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টে অর্থাৎ বিশ্বকাপের মঞ্চে এ দুই মহাতারকার কখনও মুখোমুখী দেখা হয়নি। চলতি বিশ্বকাপের আসর হতে পারে এই অপূর্ণতা ঘোচানোর শেষ সুযোগ।
৪৮ দলের নতুন ফরম্যাট। আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল নিজ নিজ গ্রুপে সেরা হয়ে এগোতে থাকলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের দেখা হবে। কেমন হবে সেই ট্যাকটিক্যাল লড়াই?
মেসি বনাম পর্তুগিজ মিডফিল্ড। আর্জেন্টিনা যদি পর্তুগালের মুখোমুখী হয় তবে মাঠের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন লিওনেল মেসি। তবে মেসির কাজটা মোটেও সহজ হবে না। মাঝ মাঠে তাকে বোতলবন্দী করার জন্য পর্তুগাল তাদের সেরা অস্ত্রগুলো ব্যবহার করবে। ম্যানমার্কিংয়ের গুরু দায়িত্ব মাঝ মাঠে মেসির মূল লড়াইটা হবে ভিতিনিয়া কিংবা রুভেন নেভিসের সঙ্গে।
তবে সবচেয়ে বেশি যে খেলোয়াড়টি মেসির সঙ্গে ছায়ার মতো লেগে থাকবেন তিনি হলেন জোয়াও নেভেস। তরুণ এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে দিয়ে মেসিকে সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখার পরিকল্পনা করতে পারেন পর্তুগিজ কোচ। উইং বনাম সেন্টার। রক্ষণভাগের নুনো মেন্দিসের সঙ্গে মেসির সরাসরি ট্যাকটিক্যাল লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। কারণ নুনো যদি মেসিকে ম্যানমার্ক করতে যান তবে তাকে নিজের উইং ছেড়ে সেন্টারে চেপে আসতে হবে। যা পর্তুগালের রক্ষণভাগকে অরক্ষিত করে দিতে পারে।
জোনাল ব্লকের বুদ্ধির লড়াই। আধুনিক ফুটবলে প্রেসিং এক বড় অস্ত্র হলেও সম্ভাব্য হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে দুই দলই কিছুটা ভিন্ন কৌশলে খেলতে পারে। আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল দুই দলেই একাধিক বল প্লেয়িং এবং ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডার রয়েছেন। একপক্ষ-অন্যপক্ষকে অতিরিক্ত প্রেস করতে গিয়ে নিজেদের ডিফেন্সে ফাঁকা জায়গা উপহার দিতে চাইবে না। অল আউট প্রেসিংয়ের চেয়ে দুই দলই জোনাল ব্লক তৈরি করে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার দিকে বেশি মনোযোগ দেবে। ফাঁদ পেতে প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষা করাই হবে মূল কৌশল। ব্রুনো বনাম মেসি লাইন ব্রেকিং পাসের যুদ্ধ দুই দলই যখন সলিড জোনাল ব্লকে রক্ষণাত্মক ও সাবধানী ফুটবল খেলা শুরু করবে তখন সাধারণ পাস দিয়ে রক্ষণ ভাঙা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। আর তখনই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের দায় পড়বে দলের সেরা ক্রিয়েটরদের উপর। ম্যাচের মোড় ঘোরাবেন তিনি যিনি নিখুঁত লাইন ব্রেকিং পাস দিতে পারেন।

একদিকে থাকবেন পর্তুগালের ব্রুনো ফারনান্দেজ। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসি। জোনাল ব্লকের জমাট রক্ষণ ভেঙে স্ট্রাইকারদের পায়ে বল জোগানোর এই লড়াইটা হবে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রাউডেড মেসি ও আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডের সুবিধা মেসির বয়স বেড়েছে। গতি আগের মতোই। এ কথা সত্য। কিন্তু তার ফুটবল ব্রেইন এখনও অনন্য। গতি কমেছে কিন্তু ভিশন বেড়েছে। পর্তুগিজ মিডফিল্ড যখন মেসিকে চারপাশ থেকে ছেঁকে ধরবে তখন মেসি নিজের মার্কারদের টেনে নিয়ে অন্যদের জন্য জায়গা তৈরি করবেন। মেসি নিজে বল না পেলেও তার এই মুভমেন্ট আর্জেন্টিনার বাকি মিডফিল্ডারদের যেমন ম্যাকালিস্টার বা এনজো ফারনান্দেস কিংবা নিকো পাসদের ফ্রি করে দেবে। স্নায়ুযুদ্ধ ও টাইব্রেকারের রোমাঞ্চ নকআউট পর্বের এমন হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে দুই দলের কেউই কাউকে এক চুল ছাড় দেবে না। অতিরিক্ত সাবধানী ফুটবল খেলার কারণে ম্যাচটি নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে টাইব্রেকারে গড়ানোর সম্ভাবনা ও প্রবল। যদি ম্যাচ টাইব্রেকারে যায় তবে আর্জেন্টিনার জন্য কাজটা একেবারেই সহজ হবে না। কারণ পর্তুগাল দলের রোনালদোসহ ঠান্ডা মাথার পেনাল্টি টেকার অনেক। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার আছে এমি মার্টিনেজের মতো টাইব্রেকার স্পেশালিস্ট।
বিশ্বকাপে কখনও মুখোমুখী হয়নি আর্জেন্টিনা-পর্তুগাল। ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডলিতে মেসি ও রোনালদোর দেখা হয়েছে মাত্র দুইবার। ২০১১ সালে মেসির আর্জেন্টিনা জিতেছিল ২-১ গোলে যেখানে মেসি ও রোনালদো দুইজনই গোল করেছিলেন। আর ২০১৪ সালে রাফায়েল গেরোরার গোলে পর্তুগাল জিতেছিল ১-০ তে। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানো এবং সেখানে মেসি রোনালদো একে অপরের মুখোমুখি হওয়াটা হয়তো অনেক যদি কিন্তু উপর নির্ভর করছে কিন্তু যদি সত্যি এই মঞ্চ তৈরি হয় তবে তা হবে ফুটবল ফ্যানদের স্বপ্নপূরণের এক ম্যাচ।
টিজে/টিকে