দোহার ও নবাবগঞ্জে আ. লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১২ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৩৯ পিএম | ০৩ জুন, ২০২৬
ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া নাশকতা মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
আজ বুধবার সকালে তাদের দোহার থানা থেকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এ সময় ‘জয়বাংলা স্লোগান’ দেন আসামিরা। আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে দোহার ও নবাবগঞ্জ থানার একাধিক দল মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের এজাহারভুক্ত ১২ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।
দোহারে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন দোহার থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আব্দুল কুদ্দুস (৫৭), মুকসুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিপন ভূইয়া (৫০), বিলাশপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য মো. খলিল শিকদার (৩৬), দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মো. সারোয়ার আলম ওরফে হানিফ (৩৫), বিলাশপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল খালেক মোল্লা (৫০), বিলাশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মো. বিশা মাতবর (৬০) এবং দোহার উপজেলা যুবলীগের সদস্য মো. বায়েজিদ হোসেন বাদল চৌকিদার (৫৯)।
অন্যদিকে নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তাররা হলো কৈলাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি নজির চৌধুরী (৪৫), আগলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এস এম আক্তার হোসেন (৫৫), বক্সনগর ইউনিয়ন তাঁতী লীগের আহ্বায়ক মো. নুরুল ইসলাম (৬০), বান্দুরা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর খোকন (৪০) এবং কৈলাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য লিটন মাদবর (৪৯)।
নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, ২ জুন রাত ১০টা থেকে ৩ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এসআই (নিঃ) মোস্তাফিজুর রহমান, এসআই (নিঃ) শুভ আহমেদ, এসআই দেলোয়ার, এসআই মনিরুজ্জামান ও এএসআই (নিঃ) তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল অংশ নেয়।
অভিযানে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত নাশকতা ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলায় তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
দোহার সার্কেলের জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এসকে/টিকে