© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নূর জাহান বেগমের মেয়ের সুচিকিৎসা ও মানসিক সমর্থন প্রয়োজন: আনিস আলমগীর

শেয়ার করুন:
নূর জাহান বেগমের মেয়ের সুচিকিৎসা ও মানসিক সমর্থন প্রয়োজন: আনিস আলমগীর

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:০৭ এএম | ০৫ জুন, ২০২৬
সম্প্রতি মিরপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আলোড়ন তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে। অভিযোগ উঠেছে উচ্চশিক্ষিত সন্তানদের চরম অবহেলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এই নারী।

তবে ঘটনার বিস্তারিত জেনে নূর জাহান বেগমের মেয়েকে নিয়ে সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেছেন, গত দু-দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই স্কুলশিক্ষিকা মেয়ের আচরণ ও সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখে উপলব্ধি করছি, তিনি নিজেই মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিধ্বস্ত। স্বামী ও সন্তানহীন এই ভদ্রমহিলার আসলে নিজেরই এখন সুচিকিৎসা ও মানসিক সমর্থন প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি। আনিস আলমগীর লেখেন, মিরপুরের সেই হতভাগ্য মা নূর জাহান বেগমের মৃত্যুতে বিস্মিত ও আবেগতাড়িত হয়ে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম।

ভেবেছিলাম, ছেলেরা দূরে থাকলেও অন্তত কন্যাসন্তান মায়ের পাশে থাকেন। কিন্তু গত দু-দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই স্কুলশিক্ষিকা মেয়ের আচরণ ও সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখে উপলব্ধি করছি, তিনি নিজেই মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিধ্বস্ত। স্বামী ও সন্তানহীন এই ভদ্রমহিলার আসলে নিজেরই এখন সুচিকিৎসা ও মানসিক সমর্থন প্রয়োজন।
 
তিনি লেখেন, একটা ঘটনার আদ্যোপান্ত না জেনে আমাদের কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে হুট করে মন্তব্য করা উচিত নয়। আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত (স্যরি)। তবে তার ছেলেদেরকে উনার দায়িত্বে অবহেলা থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি দিচ্ছি না।

এ সাংবাদিক লেখেন, একই সঙ্গে এই ঘটনা থেকে আরেকটি জরুরি বিষয়ে আমাদের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের সমাজে ‘বৃদ্ধাশ্রম’ মানেই ধরে নেওয়া হয় একটা চরম নেতিবাচক বা অবহেলার জায়গা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জীবনের নানা জটিল সমীকরণে অনেকের শেষ ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম হতেই পারে।

আমাদের মানসিকতা বদলানোর সময় এসেছে। বৃদ্ধাশ্রমকে ‘লিল্লাহ বোর্ডিং’ বা করুণার পাত্র ভাবার দিন শেষ। আমাদের ভাবা উচিত- কীভাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন, নিরাপদ এবং 'ফাইভ স্টার' মানের করে গড়ে তোলা যায়।

তিনি আরো লেখেন, শেষ বয়সে কোনো সংসারে অবহেলা আর নিগ্রহের শিকার হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে, নিজের উপার্জিত সম্পদে কিংবা পরিবারের সম্মতিতে একটি আনন্দময়, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে শেষ জীবন কাটানো অনেক বেশি জরুরি। আসুন, ট্যাবু ভেঙে বাস্তবতাকে মেনে নিতে শিখি।


আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন