ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে পুতিনকে খোলা চিঠি জেলেনস্কির
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৪৩ এএম | ০৫ জুন, ২০২৬
ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে মুখোমুখি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন।
পুতিনকে লেখা এক খোলা চিঠিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউরোপের যুদ্ধ আবারও যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে না আসা পর্যন্ত শুধু অপেক্ষা করাটা ভুল হবে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই শান্তি আসতে পারে।
তিনি প্রস্তাবিত আলোচনা চলাকালীন একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিরও আহ্বান জানিয়েছেন - যা পুতিন বৃহস্পতিবার নাকচ করে দিয়েছিলেন। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই নেতার সাক্ষাৎ হলে তিনি মনে করেন খুব ভালো হবে।
এ বিষয়ে ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে যে, তারা চিঠিটি পেয়েছে এবং পুতিনকে এ বিষয়ে অবহিত করা হবে। তবে, চিঠিটির সুর ছিল উদ্ধত, এমনকি বিদ্রূপাত্মক, যা রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, ‘২৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর পুতিনের ওপর বয়সের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।’ চিঠিটিতে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল কিয়েভের এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিষয়ে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেছে।
জেলেনস্কি লিখেছেন, ইউরোপের যুদ্ধ আবার যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের কেন্দ্রে ফিরে আসা পর্যন্ত শুধু অপেক্ষা করাটা ঠিক হবে না। এদিকে, সেন্ট পিটার্সবার্গে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়, দৃশ্যত চিঠির বিষয়বস্তু না দেখেই পুতিন বলেন, তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অবশ্যই প্রস্তুত ও ইচ্ছুক, তবে কিছু ছাড় দিতে হবে। এ বিষয়ে পুতিন পরামর্শ দিয়েছেন যে, যেহেতু ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে ব্যস্ত আছেন, তাই ইইউ জেলেনস্কিকে ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি করাতে পারে।
কিন্তু ইউক্রেন ভূখণ্ড ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। তাদের মতে, এটি রাশিয়াকে আবারও আগ্রাসন চালাতে উৎসাহিত করবে, যেমনটি তারা ২০২২ সালে করেছিল, যখন অবৈধভাবে ক্রিমিয়া দখলের আট বছর পর পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করেছিল।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে গেছে এবং জেনেভা, আবুধাবি ও ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী শান্তি আলোচনাগুলো ব্যর্থ হয়েছে।
১৮০০ শব্দেরও বেশি দীর্ঘ চিঠিতে জেলেনস্কি বলেছেন: ‘আপনাদের যুদ্ধ আমাদের দেশে যা কিছু ঘটিয়েছে, তার পর রুশ সৈন্যদের ভাগ্য নিয়ে আমরা ইউক্রেনবাসীরা চিন্তিত নই।’
‘কিন্তু আমি ইউক্রেনীয়দের নিয়ে চিন্তা করি। আমরা আমাদের লোকজনকে হারাচ্ছি, এবং প্রতিটি ক্ষতিই আমাদের জন্য বেদনাদায়ক।’ বলেন জেলেনস্কি।
জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পেট্রোলের ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি এবং যুদ্ধের কারণে রুশরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। ‘এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ বেছে নিতে ভয় পাবেন না। এখন আপনাদের কাছে এটাই প্রধান প্রত্যাশা।’ বলেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ইউক্রেন আমাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার প্রস্তাব দিচ্ছে। সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো দেশে মুখোমুখি আলোচনা হতে পারে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, এই খোলা চিঠিটি যুদ্ধ শেষ করার একটি গুরুতর ও অর্থবহ প্রস্তাব।
সূত্র: বিবিসি
আরআই/টিকে