কমছে জনসংখ্যা, বেশি সন্তান নিতে নগদ সহায়তার ঘোষণা ভুটানের
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৪৩ পিএম | ০৫ জুন, ২০২৬
হিমালয় পর্বতমালার কোলে ভারত ও চীনের মাঝে অবস্থিত আট লাখ জনসংখ্যার দেশ ভুটান। ক্রমবর্ধমান নিম্ন জন্মহার নিয়ে উদ্বেগে থাকা দেশটি জনসংখ্যা বাড়াতে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। পরিবারগুলোকে আরও বেশি সন্তান নিতে উৎসাহ দিতে নগদ সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভুটান সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৪ জুন বা তার পরে জন্ম নেয়া তৃতীয় এবং পরবর্তী সন্তানের জন্য পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ১০ হাজার গুলট্রাম (প্রায় ১০৫ ডলার) করে দেয়া হবে। শিশুর বয়স তিন বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত এ সহায়তা চালু থাকবে।
সরকার জানিয়েছে, ৪ জুনের আগে জন্ম নেয়া এমন তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানরাও এই সুবিধার আওতায় আসবে, যদি তাদের বয়স এখনও তিন বছর না হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব কেসাং ডেকি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, দ্বিতীয় সন্তানের পর যত সন্তানই হোক-তিন, চার, পাঁচ, ছয় বা সাত-সব ক্ষেত্রেই এই প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভুটানে ২০১৫ সালে যেখানে মোট জন্মের সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ১, ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১৫৩-এ। অর্থাৎ প্রায় ২৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে মোট প্রজনন হার (প্রতি নারীর গড় সন্তান সংখ্যা) নেমে এসেছে প্রায় ২ দশমিক ১-এ, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’-এর কাছাকাছি।
ভুটান সরকার জানিয়েছে, জনসংখ্যা কমে যাওয়া, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিদেশমুখী অভিবাসন দীর্ঘমেয়াদে ভুটানের শ্রমশক্তি, সামাজিক কাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে স্থলবেষ্টিত বৌদ্ধ রাষ্ট্রটিতে অর্থনৈতিক অসন্তোষের কারণে অনেক তরুণ ভুটানি উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে।
সরকার বলছে, নতুন এই নীতি মাতৃস্বাস্থ্য, শিশু ও পরিবার কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুটানের দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
রয়টার্স জানায়, প্রতিবেশী ভারতের সিকিম রাজ্য ২০২৩ সালে জন্মহার বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে নারীদের জন্য এক বছরের মাতৃত্বকালীন ছুটি, পুরুষদের জন্য এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং আইভিএফের মাধ্যমে সন্তান নিতে আগ্রহীদের আর্থিক সহায়তা।
টিকে/