ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিকে কেন্দ্র করে সিনেটে ৭০ বিলিয়ন ডলারের ‘আইসিই’ ফান্ড পাস
ছবি: সংগৃহীত
০৭:২৬ পিএম | ০৫ জুন, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিকে কেন্দ্র করে বিল পাস করেছে, যার মাধ্যমে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীন অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর জন্য অতিরিক্ত ৭০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে পাঠানো হয়েছে। খবর, রয়টার্সের।
শুক্রবার (৫ জুন) মার্কিন সিনেটে ৫২–৪৭ ভোটে বিলটি পাস হয়। কোনো ডেমোক্র্যাট এ বিলের পক্ষে ভোট দেননি এবং একজন রিপাবলিকানও এর বিরোধিতা করেন।
এই বিলের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১.৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রায়ন-বিরোধী বা অ্যান্টি-উইপনাইজেশন ফান্ড বাতিলের কোনো বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সমালোচকদের দাবি, এই ফান্ডের মাধ্যমে ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের সরকারি অর্থে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে।
বিলটি নিয়ে সিনেট রিপাবলিকান নেতা জন থুন বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যেই সমাধান হয়ে গেছে, কারণ ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ কংগ্রেসে বলেছেন যে বিচার বিভাগ এই ফান্ড এগিয়ে নেবে না। তবে ডেমোক্র্যাটরা এই ব্যাখ্যাকে যথেষ্ট মনে করছে না।
উল্লেখ্য, নতুন এই অর্থ বরাদ্দ মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি ও বহিষ্কার অভিযান পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হবে, যা আগামী তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
রিপাবলিকানদের দাবি, ডেমোক্র্যাটরা আইসিই এবং বর্ডার প্যাট্রোলকে অর্থ সংকটে ফেলতে চাইছে। যদিও এসব সংস্থার কাছে আগের বাজেট থেকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের অব্যবহৃত অর্থ রয়েছে।
এদিকে, ডেমোক্র্যাটরা বিল নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক চলাকালীন বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব আনলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। এর মধ্যে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের পরিকল্পিত ৯০,০০০ বর্গফুটের বিলাসবহুল বলরুম নির্মাণে সরকারি অর্থ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবও ছিল।
এর আগে, ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার অ্যান্টি-উইপনাইজেশন ফান্ড বাতিলের চেষ্টা করলে তা ৫০–৪৯ ভোটে ব্যর্থ হয়, যদিও কিছু রিপাবলিকানও তার পক্ষে ভোট দেন। তবে এই ভোট সিনেট রিপাবলিকানদের মধ্যে বিভাজন প্রকাশ করে।
পাস হওয়া বিলটি এরপর হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে যাবে। যেখানে এর চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে আবারও রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি এবং নতুন বিতর্কিত ফান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এমআর/টিকে