© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

লালমনিরহাটে পুশইনের চেষ্টা, ২ সীমান্ত থেকে লোকজন সরিয়ে নিল ভারত

শেয়ার করুন:
লালমনিরহাটে পুশইনের চেষ্টা, ২ সীমান্ত থেকে লোকজন সরিয়ে নিল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:১৮ এএম | ০৬ জুন, ২০২৬
লালমনিরহাটের তিনটি সীমান্ত দিয়ে নারী-পুরুষসহ ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের (জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ) চেষ্টার পর ২ সীমান্ত থেকে অবস্থানরত ব্যক্তিদের সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। হাতীবান্ধা ও আদিতমারী সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ভারতীয় অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে এখনো কয়েকজন ব্যক্তি শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। এ অবস্থায় পুরো সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার (৫ জুন) দিনভর বিজিবির তীব্র নজরদারি ও প্রতিরোধের মুখে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদিতমারীর দুর্গাপুর সীমান্তের শূন্য লাইনে থাকা ব্যক্তিদের সার্চ লাইট বন্ধ করে ভারতের ভেতরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সময়ে হাতীবান্ধার ফকিরপাড়ার বুড়ারডুবী সীমান্তের ৮৮৬ মেইন পিলারের কাছে শূন্য লাইনে থাকা ১১ জনকেও ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত নেয় বিএসএফ।


এর আগে গতকাল শুক্রবার ভোরে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ দিঘলটারী ও দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় ১২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে বিজিবি। একই দিন সকালে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীন বড়খাতা বিওপি এলাকায় ১১ জন এবং পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী বিওপি এলাকায় ১০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়।


বিজিবির কঠোর বাধার মুখে অনুপ্রবেশে ব্যর্থ হয়ে এসব ব্যক্তি সীমান্তের শূন্যরেখা ও ভারতীয় অংশে অবস্থান করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে আটটার দিকে হাতীবান্ধা ও আদিতমারী সীমান্ত থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হলেও রাত পর্যন্ত পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে কয়েকজন ব্যক্তি শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন বলে জানা গেছে। ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল থেকে ভারতের অভ্যন্তরে লোক সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


সীমান্তে পুশইনের এই চেষ্টার পর রংপুর সেক্টর সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন এলাকা ও ফেন্সিং গেট ব্যবহার করে বৈধ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বাংলাদেশে লোকজন প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এই আচরণ বিদ্যমান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত আচরণের পরিপন্থী।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন ও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে তারা কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় ইতিমধ্যে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি ও অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন