ব্রাজিল ফ্যানরা ৩৬ বছর বলে খোঁচা দিয়েছে, এখন নিজেরাই সেই পথে: সোবহানা মোস্তারি
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫৯ পিএম | ০৬ জুন, ২০২৬
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলের ব্যাটার সোবহানা মোস্তারি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে এখন ইংল্যান্ডে। তবে ক্রিকেটের বাইরেও তার আরেকটি পরিচয় আছে, তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক। আর্জেন্টিনা ৩৬ বছর বিশ্বকাপ জিততে না পারার সময়ে ব্রাজিল সমর্থকদের খোঁচা শুনতে হয়েছে নিয়মিত।
২০২২ সালে কাতারে শিরোপা জিতে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। এবার দীর্ঘ শিরোপাখরার হিসাবটা জমছে ব্রাজিলের খাতায়। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলের ব্যাটার সোবহানা মোস্তারির বিশ্বাস, একসময় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের যেভাবে ‘৩৬ বছর’ বলে খোঁচা দেওয়া হতো, ব্রাজিল সমর্থকদেরও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে! আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির নিবেদিতপ্রাণ এই সমর্থক মনে করিয়ে দিলেন, ফুটবলে সময়ের সঙ্গে সমীকরণ বদলাতেই পারে। কিন্তু ‘খোঁচার’ ইতিহাস ঘুরে ফিরে আসবেই।

বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের ঠাট্টা-তামাশার ইতিহাস বহু বছরের। বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের পর দীর্ঘ ৩৬ বছর বিশ্বকাপ জিততে না পারায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের নিয়মিত ব্রাজিল সমর্থকদের খোঁচা শুনতে হয়েছে। অন্যদিকে ব্রাজিলের পঞ্চম ও সর্বশেষ বিশ্বকাপ এসেছে ২০০২ সালে। অর্থাৎ এখন তাদেরও ২৪ বছর কেটে গেছে শিরোপা ছাড়াই। কিন্তু ২০২২ সালের আগে পর্যন্ত বিশ্বকাপ নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অবস্থান ছিল আত্মপক্ষ সমর্থনের, আর ব্রাজিল সমর্থকদের ছিল খোঁচা দেওয়ার।
আর্জেন্টিনা ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জেতার আগে বহু বছর ধরে সেই খোঁচার জবাব দেওয়ার মতো বড় কোনো সাফল্য ছিল না সমর্থকদের হাতে।
তাই কাতারের সেই রাতটা সোবহানার কাছেও ছিল বিশেষ কিছু। সোবহানার বয়স ২৪ বছর, পুরো সময়টাতেই ‘বাজে’ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই বড় হয়েছেন তিনি। গত আসরে আর্জেন্টিনা শিরোপা জেতার পর সোবহানা যেন হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন, ‘আমরা সবাই ট্রল থেকে বেঁচেছি। এরপর ব্রাজিলিয়ানরা, আমি আমার বয়সে তাদের কখনো ট্রফি জিততে দেখিনি, তারাও আমাদের অপমান করত। যা-তা বলে ট্রল করত। এখন আমরা এই বিষয়টা থেকে মুক্ত। আমরা বলতে পারি যে আমরা ট্রফি জিততে দেখেছি, ওরা তো দেখেইনি।’
হাসতে হাসতেই কথাগুলো বলছিলেন তিনি। তবে কথার মধ্যে ফুটে উঠছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দটা এখনও কতটা তরতাজা। সোবহানা মনে করেন যে ব্রাজিল সমর্থকরা ৩৬ বছরের কথা বলে আর্জেন্টিনা ফ্যানদের খোঁচাচ্ছিল, তারাও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবে, “আপনি যা করবেন, সেটি আপনার ওপরও ফিরে আসবে। ওরা যেভাবে আর্জেন্টিনা ফ্যানদের খুঁচিয়েছে ‘৩৬ বছর, ৩৬ বছর’ করে। আমার ধারণা, একই অভিজ্ঞতা তাদের হবে। এবারই ২৮ লোডিং হচ্ছে।”
সোবহানার আর্জেন্টিনা-প্রেমের শুরু অবশ্য বিশ্বকাপ দিয়ে নয়, একজন ফুটবলারকে দিয়ে। ছোটবেলা থেকেই মুগ্ধ হয়ে দেখতেন লিওনেল মেসির খেলা। সময়ের সঙ্গে সেই ভালো লাগা ছড়িয়ে পড়ে পুরো দলটির প্রতি, ‘আমি আর্জেন্টিনাকে সাপোর্ট করি। কারণ আমি অনেক বড় মেসি ভক্ত। ছোটবেলা থেকেই মেসিকে খুব পছন্দ করি।’
বাংলাদেশের অনেক সমর্থকের মতো শুধু বিশ্বকাপের সময় ফুটবলে ডুব দেন না সোবহানা। ব্যস্ত ক্রিকেট সূচির মাঝেও সুযোগ পেলেই ক্লাব ফুটবলের খোঁজ রাখেন, ‘আমি নরমালি সব ধরনের ফুটবল ফলো করি। সেটা প্রিমিয়ার লিগ হোক বা লা লিগা সবকিছু।’
চার বছর আগে কাতারে শিরোপা জয়ের পর এবারও আর্জেন্টিনাকে অন্যতম ফেবারিট মনে করছেন সোবহানা, ‘আমার মনে হয় আর্জেন্টিনা ফাইনাল পর্যন্ত যাবে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, ফাইনালে প্রতিপক্ষ স্পেন হতে পারে। কারণ স্পেন এখন অনেক ভালো দল।’
মজার ব্যাপার হলো, ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলতে বলতে সোবহানা নিজেও আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় আছেন। ১২ জুন একই দিনে ইংল্যান্ডে শুরু হবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জার্সিতে বিশ্বমঞ্চে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই ব্যাটার। বড় ম্যাচে চাপ সামলানো, প্রত্যাশার ভার বহন করা কিংবা কঠিন মুহূর্তে দলের দায়িত্ব নেওয়া এসব বিষয় ফুটবল আর ক্রিকেটের মধ্যে খুব একটা আলাদা নয়।
মেসির মতো তারকা তাই তার কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস। সমর্থক হিসেবে তিনি মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি উঠতে দেখেছেন। সেই স্মৃতি তার কাছে নিজের ২৪ বছরের জীবনের বড় প্রাপ্তি। আর ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর স্বপ্ন, একদিন বাংলাদেশের জার্সিতেও এমন কোনো অর্জনের অংশ হওয়া, যা দেশের কোটি সমর্থককে একই রকম আনন্দ দেবে।
আরআই/টিকে