ইসরায়েলের দিন ‘ফুরিয়ে’ আসছে: মোজতবা খামেনি
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩৪ পিএম | ০৮ জুন, ২০২৬
ইসরায়েলের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন খুব কাছাকাছি বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার মাঝেই সোমবার (৮ জুন) এক হুঁশিয়ারিতে তিনি বলেন, 'নড়বড়ে জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার হাতে আর মাত্র কয়েক দিন সময় আছে।'
সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর এবং ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিতে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে গভীর রাতে উত্তর ইসরায়েলে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এরপর ইসরায়েলও পাল্টা হিসেবে ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এর ফলে তেহরান, ইসফাহান এবং তাবরিজসহ কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবারের ইসরায়েলি হামলায় মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানে আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, তেহরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অভিযোগ করেছে, বেসামরিক স্থাপনা ও তেলশিল্পকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল এক 'বিপজ্জনক খেলা' শুরু করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে আইআরজিসি জানায়, ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহরে এই পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, চলমান উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে বিরূপ প্রভাব পড়বে, তার সম্পূর্ণ দায় সংঘাতের মূল হোতা যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা শুরু করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে এই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরবর্তীতে এর বাস্তবায়ন ও আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় শান্তি আলোচনা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে।
এসএন