© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ঋণের টাকায় ‘তেলেসমাতি’ আর্জেন্টিনাভক্ত ভ্যানচালক মেসি সুমনের

শেয়ার করুন:
ঋণের টাকায় ‘তেলেসমাতি’ আর্জেন্টিনাভক্ত ভ্যানচালক মেসি সুমনের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:২৩ পিএম | ০৯ জুন, ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই যেন বদলে যায় তার জীবন। নাম সুমন, তবে এলাকায় তিনি বেশি পরিচিত ‘মেসি সুমন’ নামেই। আর্জেন্টিনার প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর ফুটবল উন্মাদনায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার দত্তপাড়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের এই ভ্যানচালক এবারও করেছেন ব্যতিক্রমী আয়োজন।

আর্জেন্টিনার নীল-সাদা পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন আর নানা সাজসজ্জায় নিজের বসতিপাড়া সাজিয়ে তুলছেন তিনি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন ছোট্ট একটি আর্জেন্টিনা গ্রাম।

তবে এই আয়োজনের পেছনের গল্প আরও বিস্ময়কর। আর্জেন্টিনাকে সমর্থন জানাতে স্ত্রী আরতি রাণী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পূর্ণিমার নামে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন সুমন। সেই অর্থ ব্যয় করছেন পতাকা, ব্যানার, রং ও বিভিন্ন সাজসজ্জার কাজে।

শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য বিরিয়ানি রান্না করে আপ্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই সুমনের। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন। জীবিকা নির্বাহ করেন ভ্যান চালিয়ে। সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আর আর্জেন্টিনার প্রতি আবেগ তাকে থামাতে পারেনি।

সুমন বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। এখন সবাই আমাকে সুমন না, ‘মেসি সুমন’ নামেই চেনে। বিশ্বকাপ এলেই আমি চেষ্টা করি আর্জেন্টিনার জন্য কিছু করতে। এটা আমার ভালোবাসা।

তার স্ত্রী আরতি রাণী বলেন, অনেক বছর ধরেই স্বামীর আর্জেন্টিনাপ্রেম দেখে আসছি। সংসারে অভাব আছে, তবুও বিশ্বকাপ এলে তিনি সবকিছু ভুলে যান। এত টাকা খরচ করে এসব করা পাগলামি মনে হলেও স্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়েছি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুমন খুবই দরিদ্র মানুষ। ভ্যান চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই ঋণ নিয়ে এলাকায় সাজসজ্জা করেন, খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেন। এ কারণেই সবাই তাকে ‘মেসি সুমন’ নামে চেনে।

ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, অনেকের কাছে এটি আবেগ, ভালোবাসা আর পরিচয়ের অংশ। আর ময়মনসিংহের ‘মেসি সুমন’ সেই আবেগেরই এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। নিজের ঘাম ঝরানো উপার্জন আর ঋণের টাকায় প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি এলাকায় হয়ে উঠেছেন এক অনন্য চরিত্র।

এফআর/টিএ

মন্তব্য করুন