জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পরও দারিদ্র্য দেখেছেন মিঠুন!
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪০ পিএম | ১০ জুন, ২০২৬
ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মিঠুন চক্রবর্তী একটি উজ্জ্বল নাম। নাচ, অভিনয় আর ব্যক্তিত্ব দিয়ে কয়েক দশক ধরে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। জাতীয় পুরস্কার থেকে শুরু করে পদ্মভূষণ—অসংখ্য সম্মানে ভূষিত এই অভিনেতার জীবন আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প। তবে এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে কঠিন সংগ্রাম আর দারিদ্র্যের এক দীর্ঘ অধ্যায়।
সম্প্রতি এক আলোচনামূলক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মিঠুন চক্রবর্তীর ছেলে মিমো চক্রবর্তী বাবার জীবনের সেই অজানা অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য, খ্যাতি আর সাফল্যের অনেক আগে এমন সময়ও ছিল, যখন মাথা গোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত ছিল না মিঠুনের।
মিমো জানান, বাবা তাকে প্রায়ই নিজের সংগ্রামের দিনগুলোর কথা বলতেন। সে সময় কোনো বাসা কিংবা আশ্রয়স্থল ছিল না তার। অনেক রাত তাকে পার্কেই কাটাতে হতো। কিন্তু সেখানেও শান্তি ছিল না। পুলিশ এসে পার্ক থেকে সরিয়ে দিত, কখনও কখনও মারধরও করত। এরপর আবার নতুন কোনো জায়গা খুঁজে রাত কাটানোর চেষ্টা করতেন তিনি।

তবে মিঠুনের সংগ্রামের গল্প শুধু তারকা হওয়ার আগের সময়েই সীমাবদ্ধ ছিল না। জাতীয় পুরস্কার অর্জনের পরও তাকে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিমো।
একটি ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর এক সাংবাদিক মিঠুন চক্রবর্তীর সাক্ষাৎকার নিতে চেয়েছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর অভিনেতার কাছে পৌঁছালে তিনি একটি শর্ত দেন। সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগে তাকে খাবার কিনে দিতে হবে। কারণ তখন তার কাছে খাবার কেনার মতো টাকাও ছিল না এবং তিনি না খেয়েই ছিলেন।
মিমোর মতে, জীবনের এই কঠিন অভিজ্ঞতাগুলো কখনও ভুলে যাননি মিঠুন চক্রবর্তী। বরং সেসব স্মৃতিই তাকে মানসিকভাবে আরও শক্ত করেছে। সেই শিক্ষা তিনি নিজের সন্তানদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, যখনই সমালোচনা বা নেতিবাচক মন্তব্যের মুখোমুখি হন, তখন বাবার সংগ্রামের গল্পগুলো মনে করেন। সেই স্মৃতিই তাকে ধৈর্য ধরতে এবং কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সাহস জোগায়।
চলচ্চিত্র জগতের ঝলমলে আলোর আড়ালে থাকা এই গল্প নতুন করে মনে করিয়ে দেয়, সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর আগে কতটা প্রতিকূল পথ পাড়ি দিতে হয়েছে মিঠুন চক্রবর্তীকে। পার্কে রাত কাটানো সেই সংগ্রামী যুবকই একদিন হয়ে উঠেছেন ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় ও সম্মানিত তারকা।
এসএ/টিএ