© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাজেটে সবার জন্য ব্যবসার সুবিধা তৈরির প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

শেয়ার করুন:
বাজেটে সবার জন্য ব্যবসার সুবিধা তৈরির প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৫৩ এএম | ১১ জুন, ২০২৬
সবার জন্য সুন্দরভাবে ব্যবসা করার সুবিধা তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকের জন্য এমন সুবিধা তৈরি করা হবে, যেখানে তারা সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে পারেন, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন—সেভাবেই আমরা চেষ্টা করছি এবারের বাজেটটি তৈরি করতে।

গতকাল বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের চতুর্থ দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ মো. মোবাশ্বের আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর আমরা আগেও দেখেছি এবং পতনের পরও পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি, কীভাবে দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দেশকে গড়ে তুলতে হলে অর্থনৈতিক সুশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে দেশে ব্যবসাবান্ধব একটি পরিস্থিতি বা পরিবেশও গড়ে তুলতে হবে। এ সরকারের প্রথম বাজেটে আমরা চেষ্টা করেছি, দেশে যারা ব্যবসায়ী আছেন, তারা যেন বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ী হতে পারেন, ট্রেডারও হতে পারেন অথবা ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট হতে পারেন। তারই অংশ হিসেবে সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে সহজকরণ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুততর সময়ের মধ্যে প্রদান করা হচ্ছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য রপ্তানি নীতি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ হালনাগাদকরণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্ডেড এবং নন-বন্ডেড সব প্রতিষ্ঠানকে এফওসি (ফ্রি অব চার্জ অর ফ্রি অব কস্ট) ভিত্তিতে আমদানির সুযোগের আওতা আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। আমদানি সহজীকরণের লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে এবং সব আমদানিকারকের জন্য মূল্যসীমা নির্বিশেষ এলসি ছাড়া চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চুক্তি বাস্তবায়ন ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাণিজ্য সহজীকরণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলো বিনিয়োগ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর একীভূতকরণ, মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত ও নীতিগত সমন্বয়, মূলধন ও বিনিয়োগ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ।

তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে লজিস্টিক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যয় ও সময় কমানোর লক্ষ্যে নতুন বন্দর অবকাঠামো নির্মাণ ও বিদ্যমান সুবিধার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। লালদিয়া টার্মিনাল চলতি বছর কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং বে-টার্মিনাল প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণকাজ অগ্রসর হচ্ছে, যা সম্পন্ন হলে বৃহৎ জাহাজ সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরে নোঙর করতে পারবে এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপিদলীয় সদস্য জহরত আদিব চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগে একটি বিষয় ছিল তারা লভ্যাংশ নিতে না পারলে কেন এখানে বিনিয়োগ করবে? এ সমস্যাটা আইনের মাধ্যমে সমাধান করেছি। তিন-চার দিন আগে হওয়া মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিদেশ থেকে কোনো বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক বিদেশি বিনিয়োগ দেশে নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে তাদের বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরামর্শক ফ্রি বা কমিশন দেব, প্রণোদনা তাদের দেব।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের কার্যউপদেষ্টা বৈঠকে কিছু কিছু বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ঈদের আগে দেওয়া বরাদ্দ পাননি বলে বিরোধীদলীয় নেতা আমাকে জানিয়েছিলেন। যেটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছিল। আমি বৈঠক থেকে বের হয়ে এসে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য কেউ যদি না পেয়ে থাকেন, যাতে দ্রুত সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটার মাধ্যমে বোঝাতে চাইছি বর্তমান সরকার দেশের সম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। আমরা সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। তাদের এলাকায়ও আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।

জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে কোনো আসন নেই। স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক যে কাঠামো তার ভিত্তিতে তাদের দলীয় অবস্থান থেকে কিছু জায়গা তাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, তারা কোথায় কাজ করবেন। নির্বাচনি এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার সম্পূর্ণ হক আছে। নারী সংসদ সদস্যদেরও একই রকমভাবে হক আছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা যেটি নিয়ম আছে সরকারের সেই নিয়ম অনুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার যদি কোনো উন্নয়নের বিষয়ে যদি আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকে জানাবেন। আমি সরাসরি আপনাকে সহযোগিতার চেষ্টা করব।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে মাঠ প্রশাসনকে দেওয়া অন্যান্য নির্দেশনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণপূর্বক প্রতিরোধমূলক ও দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা পরিহার করে দ্রুত, বাস্তবসম্মত ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করতে হবে।

সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১৮০ দিন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের জন্য মেগা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এসব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের করা লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান।

দেশে হাইটেক/সফটওয়্যার পার্কগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং ‘পেপাল’ কার্যক্রম আরম্ভের উদ্যোগ গ্রহণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

টিজে/এসএন

মন্তব্য করুন